‘মানিকের বিকল্প নেই’

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে তিন বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক নির্বাচনী শো-ডাউন করেছেন। শনিবার বিকালে নির্বাচনী এলাকার দোয়ারা বাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি এই শোডাউন করেন। সকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে এসে দোয়ারাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকের সভাপতিত্বে এবং ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আহমদ ও দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক আবুল মিয়ার সঞ্চালনায় বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, ড. জয়া সেন গুপ্তা এমপি, সুনামগঞ্জ- মৌলভীবাজার সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত।
সমাবেশে এছাড়াও বক্তব্য দেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতা সুজাত আলী রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আব্দুর রহিম, দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালিক, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল আজাদ রুমান, ছাতক পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী প্রমুখ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেন,‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে উন্নয়ন হয়েছে। এদেশের উন্নয়ন দেখে বিশ্ব নেতারা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।’ তিনি বলেন,‘ছাতক- দোয়ারায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মুহিবুর রহমান মানিকের বিকল্প নেই।’
বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, এরাই আওয়ামী লীগ এবং আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে। ৭৫’এ জাতির জনককে স্বপরিবারে খুন করার পর কারা উল্লাস করেছিল, তাঁদের ইতিহাস ছাতক- দোয়ারাসহ সুনামগঞ্জের মানুষের জানা। ছাতক- দোয়ারাবাসী স্বাধীনতা বিরোধীদের কখনোই সমর্থন দেবে না।’
তিনি বলেন,‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ছাতক- দোয়ারায় একটি মহল নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। এরা ছাতক- দোয়ারার উন্নয়ন চোখে দেখে না। বিগত ৯ বছরে ছাতক দোয়ারায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলায় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন,‘আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় গত নয় বছরে কেবল দোয়ারাবাজারেই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দোয়ারাবাজারের ৯ টি ইউনিয়নে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যায়ে জমি আছে – বাড়ি নাই এমন ২১৬ পরিবারের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছাতক- দোয়ারা- সুনামগঞ্জ সড়কের উন্নয়ন, ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে পান্ডারখালের উপর সেতু নির্মাণ, ৫১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ৬৯ টি সড়ক পাকাকরণ, ১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, ৪ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন, বাঁশতলায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিভবন ও ১১ জন ভূমিহীন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নির্মাণ, ৮ কোটি ৪১ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০ টি উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন, ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ টি কালভার্ট ও বোট ল্যান্ডিং ঘাট নির্মাণ, ২ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে মঙ্গলপুর-চানপুর সড়কের মঙ্গলপুর নদীর উপর সেতু নির্মাণ, ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় বাংলাবাজার হকনগর – বোগলাবাজার সড়কের উন্নয়ন, ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ১১ টি জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ। ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন। ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচি’র আওতায় ১০ হাজার ৯ শ’ ৪১ জন উপকারভোগীর মাধ্যমে সড়কের উন্নয়ন। ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১ টি কালভার্ট নির্মাণসহ অসংখ্য উন্নয়ন কাজের বিবরণ দেন তিনি।
সমাবেশের আগে উপজেলার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন এমপি মানিকসহ অতিথিবৃন্দ।