‘মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশী আমরা’

বিশেষ প্রতিনিধি
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের লাখো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীরাও। কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে, কেউবা নিজের আবাসনে রুটি, হালুয়া তৈরি করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিচ্ছে। দিন-রাত পরিশ্রমের তৈরি প্যাকেট সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে আনন্দিত সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রীরা। কলেজের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তমা তালুকদার বললো,‘মনে হয়েছে, একটি বড় কাজ করছি, আমাদেরকে কাজে লাগালে আরও কাজ করতে চাই, সুনামগঞ্জের মানুষ এতো বড় দুর্যোগ কখনো মোকাবেলা করেন নি, আমরা যারা বহুতল ভবনের ছাত্রীনিবাসে ছিলাম, তারা মানুষের আর্তনাদ-আকুতি দেখেছি, ১৬ জুন গভীররাতে মানুষের অসহায়ত্ব দেখে মনে হয়েছে, যেকোন সময় জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে, যতদিন বাঁচা যায় কেবল নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্যও করতে হবে, এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে অনেক খুশি আমি’।
একই কলেজের অনার্সের (গণিত বিভাগ) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিয়া আক্তার বললো, রোববার ও সোমবার দিনে রাতে কাজ করেছি, শরীরে একটুও পরিশ্রম অনুভব করি নি। কেউ রুটি তৈরি করেছি, কেউ প্যাকেট তৈরি করেছি, কেউ বা হালুয়া তৈরি করার কাজ করেছে।
একই কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পাপরি তালুকদার বললো, ৮৫ জন শিক্ষার্থী মিলে ৬২০ পেকেট তৈরি করে সেনা বাহিনীর কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়েছি। মানসিক তৃপ্তি পেয়েছি। সেনাবাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা সরাসরি মানুষের পাশে যেতে চাই।
এই কলেজের শিক্ষার্থী মুসলিমা জান্নাত কলি ও রুনা আক্তার একই ধরণের মন্তব্য করলেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রজত কান্তি সোম মানস বললেন, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থায়নে কলেজের ছাত্রী নিবাসের শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফুর্তভাবে সারা রাত রুটি, হালুয়ার ৬২০ প্যাকেট তৈরি করেছে। প্রতি প্যাকেটে ৩ টা রুটি ও হালুয়া দেওয়া হয়েছে। এই ত্রাণ সোমবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিতরণ হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আছে, এই কাজ অব্যাহত রাখার।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কেবল নয়, বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীগণ দাঁড়িয়েছে বন্যার্তদের পাশে। এছাড়া ছাত্র সংগঠনের নেতারাও ট্রলারে করে ত্রাণ নিয়ে ছুটছেন বানভাসি মানুষের পাশে।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে মঙ্গলবারও ত্রাণ বিতরণ হয়েছে জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে। ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা উত্তরের সহসভাপতি মহিবুল্লা খান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে এবং ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এসময় সঙ্গে ছিলেন। এর আগে রোববার ও সোমবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সম্পাদক তারেক মিয়া উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অনিক রায়, কেন্দ্রীয় নেতা জাওয়াদুল ইসলাম, জয় রায় এবং জেলা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি সাঈদুর রহমান আসাদের নেতৃত্বে তিনদিন হয় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নেতারা দুই দিন আগে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গেল ১৬ গভীর রাতে সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। শুক্রবার ভোর তিনটায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায় জেলার ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা। এই তিন উপজেলার বেশিরভাগেরই ছাল ছুঁয়েছে ঢলের পানি। অন্যান্য উপজেলার মানুষও পানিবন্দি হয়ে পড়েন।