‘মানুষের প্রতি আন্তরিকতার অভাব নেই প্রধানমন্ত্রীর’

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে গত দুইদিন বৃষ্টি না হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে নদী ও হাওরের পানি। তবে জেলার ভাটি এলাকা হিসেবে পরিচিত তিনটি উপজেলায় পানি স্থিতিশীল আছে। এসব এলাকার এখনো মানুষের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বন্যার পানি আছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বুধবার বিকেল তিনটায় বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মঙ্গলবার একই সময় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। মঙ্গলবার ও বুধবার সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়নি।
জেলার সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলা গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যা কবলিত। এসব উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামের মানুষই আক্রান্ত হয়েছে। এলাকায় মানুষের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি যান চলাচল এখনো বন্ধ আছে। তবে অন্যান্য উপজেলার সঙ্গে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গত চারদিন ধরে জেলার ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। এসব এলাকায় মানুষের বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে এখানো পানি আছে।
জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী জেলায় বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজার। ২২ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার উপজেলাগুলোতে ৩৮৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ নয় লাখ ৮০হাজার টাকা এবং সাত হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন বিতরণ করছে। জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৩১৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং পাঁচশ তাবুর সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেছেন, সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতির দিকে। যেহেত বৃষ্টি হচ্ছে না তাই আরও উন্নতি হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
দুই মন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ
সুনামগঞ্জে বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি ত্রাণ বিতরণ ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিমিয় করেন।
বেলা তিনটায় তাঁরা জেলার ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের ধারণ এলাকায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের (ছাতক-দোয়ারাবাজার) সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) সাংসদ ড. জয়াসেন গুপ্তা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে সকলকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বন্যার্তদের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। ইতিপূর্বে এই জেলায় ৭০০ টন চাল দেওয়া হয়েছিল। আজ আরও ২০০ টন চাল বাড়ানো হয়েছে। নগদ ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল, আজ আরও ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছিল, আজ আরও ১ হাজার প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। বন্যার্ত কারো আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে ৫০০ তাবু দেওয়া আছে। এক তাবুতে ২০ জন মানুষ থাকতে পারবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি বলেছেন, মানবতার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতি রয়েছে অফুরন্ত ভালোবাসা রয়েছে। বর্ষাকালীন দুর্যোগের সময় তিনি ভাঁটি অঞ্চল সুনামগঞ্জের মানুষের খোঁজ-খবর নেন। বন্যা কবলিত এলাকার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ৭শ’ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছে। আরো ২শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য। প্রয়োজনে সাময়িক বসবাসের জন্য বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য তাবুও দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জবাসী ফসল হারিয়েছিলেন। সরকার সারা বছর তাদেরকে বিনা মূল্যে চাল ও নগদ টাকা দিয়েছে। বর্তমানেও বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার।
পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেন, সুনামগঞ্জকে বন্যার কবল থেকে মুক্ত করার জন্য বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলার ৫ টি পয়েন্টে নদী ভাঙন রয়েছে, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। জেলার কোন হাওর বা অঞ্চল যাতে জলাবদ্ধতায় না ভোগে এজন্য নদী খনন কাজ শুরু হয়েছে। নদী খননের ১৫ শ’ কোটি টাকার ডিপিপি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকায় এতো বড় দুর্য়োগেও দেশে একজন মানুষের মৃত্যু ঘটেনি। দেশের মানুষের প্রতি আন্তরিকতার কোন অভাব নেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।
পরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন দুই মন্ত্রী। ত্রাণ বিতরণের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এখানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার এমপি, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মে. সফর উদ্দিন। রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা।