মাস্কও বিক্রি করছে অনেক শিশু

আসাদ মনি
করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী মাস্ক বিক্রি করে পরিবারকে সহযোগিতা করছে। শহরের কোর্ট পয়েন্ট, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকাসহ ফুটপাতে ছোট শিশুদের মাস্ক বিক্রি করতে দেখা গেছে। করোনায় দরিদ্রতা বৃদ্ধি, স্কুল বন্ধ ও সামাজিক সেবা প্রাপ্তি কমতে থাকায় অধিক সংখ্যায় শিশুদের কর্মক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। মাস্ক বিক্রি করা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহামারী করোনা পারিবারিক আয়ে বিপর্যয় নিয়ে আসায় কোনো সহায়তা না পেয়ে তারা শ্রমে নিয়োজিত হতে বাধ্য হয়েছে।
পৌর শহরের ওয়েজখালীর বাসিন্দা শিশু আলমগীর, প্রথম শ্রেণির ছাত্র সে। এই সময়ে হাতে বইপত্র থাকার কথা ছিলো। কিন্তু করোনা সবকিছু থমকে দিয়েছে। পরিবারের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় মাস্ক হাতে দিয়ে রাস্তায় বের করে দিয়েছেন তার চাচা।
শিশু আলমগীর বললো, ‘আমার বাবা আরেকটা বিয়ে করেছে। আমাদের সঙ্গে থাকে না। আমরা ২ ভাই, মা আর নানা-নানু এক সঙ্গে থাকি। আমি বড়। ওয়েজখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় মাস্ক বিক্রি করছি।’
প্রতিদিন কয়টা মাস্ক বিক্রি করতে পারছো এমন প্রশ্নের উত্তরে সে বললো, ‘ঠিক নেই। কোনো দিন ২০ টা, ৩০ টা সর্বোচ্চ ৪০ বিক্রি করতে পারি। ৫ টাকা ১০ টাকা ধরে বিক্রি করি। সে টাকা বাড়িতে নিয়ে দেই।’ সে আরও বললো, মা দিন মজুর। মাটি কাটার শ্রমিক। এখন কাজও পায় না। প্রতিদিন মাস্ক বিক্রির ২০০-২৫০ টাকা দিয়ে সংসার চলে।’
একই কথা বলছিলো শিশু নাহিদ মিয়া (১০)। সেও ফেরি করে ফুটপাতে মাস্ক বিক্রি করে। নাহিদ বললো, ‘জামালগঞ্জ উপজেলার বদরপুর গ্রামে বাড়ি আমাদের। ২ মাস আগে পরিবারসহ শহরের জামতলায় চলে আসি। কয়েকদিন বাবার সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নকশি কাঁথা বিক্রি করেছি। কাঁথা এখন কেউ কিনতে চায় না। তাই বাবা এখন হবিগঞ্জ চলে গেছেন কাঁথা বিক্রি করতে। আমি শহরে মাস্ক বিক্রি করি।’
বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজান হোসেন মারুফ বলেন, আমরা ২ ভাই ২ বোন। বড় ভাই পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফল বিক্রি করে। ভাই মাস্ক দিয়ে বলেছে বিক্রি করতে।
সুনামগঞ্জ জেলা খেলাঘর আসরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ বলেন, নি¤œ আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি সরকারকে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশুরা যত বেশি সময় স্কুলের বাইরে থাকে, তাদের আবার স্কুলে ফেরার সম্ভাবনা ততটাই কমে যায়। সরকারের এখন শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মহামারীর পুরো সময়জুড়েই তা অব্যাহত রাখা উচিত।
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল বর্মণ বললেন, এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন জানালেন, এই ধরণের কোন তথ্য তার কাছে নেই। এজন্য তিনি এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না।