মাহে রমজানে ‘ইবাদত’

সু.খবর ডেস্ক
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ যথাক্রমে কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রভৃতি যেমন আল্লাহর ফরজ ইবাদত, মাহে রমজানে আল্লাহর নিয়ামত উপভোগ করে শুকরিয়া আদায় করাও অনুরূপ ইবাদত। অন্যদিকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজানকে ইবাদতের মাসও বলা হয়। এ মাসে দিনে রাতে যত বেশি এবাদত বন্দেগি করা যায়, তার চেয়েও বেশি সওয়াব লাভ করা যায়। যার কারণে এই রমজান মোবারকে ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজে যতœবান হওয়া দরকার। বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির আযকারসহ সব ভাল কাজই রোজার ইবাদতে পরিগণিত হবে। এই মাস অন্য সব মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। রমজান হল সেই মাস যে মাসে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা নিজেই মোমিনদের ভাল কাজের প্রতিদান বাড়িয়ে দেন এবং মোমিনদের ক্ষমা করে থাকেন।
সাহাবি হযরত আবু হুরাইরাহ (রাদি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলাল্লাহ (সাল্লা:) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানের ভাল কাজের প্রতিদান দশ থেকে সাতশ গুণ বেশি পাবে, কিন্তু তা সিয়াম (রোজা) ছাড়া। কারণ রোজা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ নিজেই এর প্রতিদান দিবেন। (মুসলিম ২৭০৭)
মহানবী (সা.) এর এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় এমনিতেই রমজান ছাড়া অন্য যে কোনো মাসে ভাল কাজের জন্য দশ থেকে সাতশ গুণ সওয়াব দেয়া হয়। রমজানে ভাল কাজের প্রতিদান কতটুকু হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভাল কাজ বলতে কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির আযকার, এবাদত বন্দেগি ইত্যাদি বুঝায়। রোজা রেখে যদি কেউ ভাল কাজ করেন আল্লাহ পাক তার এই উত্তম কাজের প্রতিদান নিজেই দান করবেন।
মাহে রমজান আসার সাথে সাথেই প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি মাত্রায় এবাদতে মগ্ন হয়ে যেতেন। সাহাবাগণও তাঁকে অনুসরণ করতেন।
উম্মুল মোমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমজান মাস আসতো, তখনই রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ পাকের এবাদতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর হয়ে যেতেন। আর গোটা মাসেই নিজের বিছানা মোবারকের উপর তাশরীফ আনতেন না। (দুররে মানসুর, ১ম খ-, ৪৪৯ পৃষ্ঠা)
মাহে রমজানে বান্দার উচিত আল্লাহর দরবারে খালেছ নিয়্যতে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকা। আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত করে যতবেশি কান্নাকাটি করা যায়, দোয়া করা যায় ততই উত্তম।
আরেক হাদিসে আছে, উম্মুল মোমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যখন রমজানের আগমন হতো, তখন প্রিয়নবী (সা.) এর রং মোবারক পরিবর্তন হয়ে যেতো। আর তিনি বেশি পরিমাণে নামাজ পড়তেন, খুব কান্নাকাটি করে দোয়া করতেন এবং আল্লাহর ভয় হুজুরকে আচ্ছন্ন করতো। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খ-, ৩১০ পৃষ্ঠা)
মাহে রমজানে রোজা রেখে সবসময় আল্লাহ পাকের জিকির আযকার এবং তাঁর প্রিয় হাবিবের প্রতি দরুদ পাঠ করা ইবাদত।
আমিরুল মোমেনিন হযরত ওমর ফারুক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, জাকেরুল্লাহে ফি রামাদানা ইয়্যুগফেরুল্লাহু ওয়া সায়েলুল্লাহে ফী’হে লা ইয়াখিবু। অর্থাৎ- রমজান মাসে আল্লাহ তাআলার জিকিরকারীকে ক্ষমা করা হয় এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনাকারী বঞ্চিত হন না। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খ-, পৃষ্ঠা ৩১১)। প্রকৃতপক্ষে তারা অনেক বেশি সৌভাগ্যবান যারা এই রমজান মাস পেয়ে রোজা রেখে আল্লাহর এবাদতে মগ্ন থাকেন।
বরকতময় এ মাসে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রোজা, এক রাকাআত নামাজ, একবার তাসবিহ পাঠ করারও উত্তম প্রতিদান পাওয়া যায়। আর যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি রোজা, প্রত্যেক রাকাআত নামাজ এবং প্রত্যেক তাসবিহ সঠিকভাবে আদায় করেন তাহলে তার জন্য রয়েছে হাজারগুণের চেয়েও বেশি সাওয়াব। তিনিই তো আল্লাহর মকবুল বান্দা। তার জন্যই তো দুনিয়ায় কল্যাণ এবং পরকালে মুক্তি রয়েছে। তিনিই তো আল্লাহ পাক ও তাঁর প্রিয় হাবিবের দিদার লাভে সক্ষম হবেন।
হযরত ইব্রাহিম নাখই (রা.) বলেন ‘রমজান মাসে একদিন রোজা রাখা অন্যসময়ে এক হাজার রোজা রাখার চেয়ে উত্তম। রমজান মাসে একবার তাসবিহ পাঠ করা এবং এক রাকাআত নামাজ পড়া অন্য মাসে একহাজার তাসবিহ ও একহাজার রাকাআত নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। (দুররে মানসুর, ১ম খ-, ৪৫৪ পৃষ্ঠা)
তাই প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা আসুন! মাহে রমজানে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল হয়ে যাই। বেশি করে আল্লাহকে ডাকি, কোরআন তেলাওয়াত করি, কোরআন ও হাদিসের মর্মার্থ বুঝার চেষ্টা করি, অহেতুক কথাবার্তা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকি, ফরজ নামাজ আদায় করে নফলের প্রতিও যতœবান হই। সবসময় সত্য কথা বলি আর হালাল রিজিক উপার্জন করি। তাহলে সঠিক সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক আমাদের মকবুল বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবেন।