মায়ের বোধনের পর পায়ে জুতো পরেন না কেউ

সজীব দে
স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে সুখলাইন গ্রামে নিজ বাড়িতে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন গগন চন্দ্র দাশ ও সত্য বালা দাশ। সময়ের হাত ধরে এই ঐতিহাসিক পূজা এবার ১০০ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। শাল্লা উপজেলার ডাক্তার বাড়ির শত বছরের পুরোনো এই পূজাকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে নানা ঐতিহ্য। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৩২৬ বাংলায় শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের সুখলাইন গ্রামের গগন চন্দ্র দাশ ও তার স্ত্রী সত্য বালা দাশ গয়া-কাশী তীর্থ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে সত্য বালা দাশ দুর্গা পূজা করার স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হন। ঐ বছরই বাসন্তি পূজার মাধ্যমে বাড়িতে পূজার সূচনা হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক সুবিধার জন্য বাসন্তি পূজার পরিবর্তে শরৎকালে পূজা করার প্রচলন হয়। সেও প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেছে। গগন চন্দ্র দাশ ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর বড় ছেলে রাজেন্দ্র কুমার দাশ ডাক্তার হওয়ায় বাড়ির পূজা ডাক্তার বাড়ির পূজা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। দেবীর বোধন থেকে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজার একটা আলাদা বৈশিষ্ট হলো দেবীর বোধনের পর থেকে বাড়ির কেউ পায়ে জুতো রাখেন না।
বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। তবে দেবী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রচলিত নিয়ম অনুসারে এখানে বিসর্জন দেয়া হয় না। মন্ডপেই রাখা হয়। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ধূপ-ধুনা দেয়া হয়। পরবর্তীতে শ্রাবণী পূজায় দেবীর বিসর্জন করা হয় এখানে। গগন চন্দ্র দাশ যে মন্ডপটি তৈরি করেছিলেন তা বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিবছরই হাফ ওয়াল ও টিনের চালের পূজা মন্ডপ সংস্কার করতে হয়। পূজার তিন দিন চন্ডীপাঠ ও গীতা পাঠ হয়। নির্দিষ্ট আচার মেনে অত্যন্ত সাত্ত্বিক ভাবে মায়ের পূজা করা হয়। তবে এবার ডাক্তার বাড়ির পূজার শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ায় বাড়ি থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। মহাঅষ্টমীর রাতে যাত্রাপালারও আয়োজন করা হয়েছে।
গগন চন্দ্র দাশ’র কনিষ্ঠ সন্তান সুকুমার চন্দ্র দাশ’র ছেলে সজল কান্তি দাশ এভাবেই তাঁর বাড়ির দুর্গাপূজার ইতিহাস গল্পচ্ছলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘ঠাকুরদাদা ১৩২৬ বাংলায় পূজা শুরু করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিবছর আমাদের বাড়িতে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রামে একটি পূজা হওয়ায় প্রচুর লোক সমাগম হয়। বাইরে থেকেও ভক্তরা আসেন। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের বাড়িতে পূজা শুরু হওয়ার পর ঠাকুরমা কাউকে পায়ে জুতো রাখতে দিতেন না। তিনি গয়া-কাশী থেকে তীর্থ ভ্রমণ করে ফেরার সময় সেখানকার মাটি নিয়ে এসেছিলেন তা মন্দিরে এখনও প্রতিষ্ঠিত আছে। এছাড়াও প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণ, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি হয়। রাতে মায়ের আরতির সময় ধর্মীয় গান বাজনা হয়। এবার মহাঅষ্টমীর রাতে যাত্রাপালার আয়োজন ‘কলঙ্কিনী বধূ’। এটি পরিচালনা করবেন ডা. রঞ্জন দেবনাথ।