মীরপুর ও দশঘর ইউপি নির্বাচনে আর বাধা নেই

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ও সিলেটের বিশ^নাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এদিকে নির্বাচন বঞ্চিত মীরপুর ইউনিয়নবাসী শুক্রবার বিকালে আনন্দসভা করেছেন।
ইউনিয়নবাসীর নিয়ে গঠিত ‘সর্বদলীয় নির্বাচন বাস্তবায়ন পরিষদ’র উদ্যোগে স্থানীয় মীরপুর বাজারে পরিষদের আহবায়ক মাওলানা মহিউদ্দিন এমরানের সভাপতিত্বে ও পরিষদের সদস্য ফয়সল আহমদের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, মাঈন উদ্দিন খান, নুরুল ইসলাম, আবুল হোসেন, রফিক উদ্দিন, মোজাক্কির হোসেন, মিজানুর রহমান, জহুর মিয়া, লিতু খান, শামসুজ্জামান শামিম, আনু মিয়া, মঞ্জুরুল আমিন দোয়েল, সুলতান মিয়া প্রমুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালে সর্বশেষ মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আকমল হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর দশঘর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন। ২০০৮ সালে মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে আকমল হোসেন পদত্যাগ করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর থেকে ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে ২০১৩ সালে দশঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমালে এ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য ছাতির মিয়া।
জগন্নাথপুর ও বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে উপজেলার সব ক’টি ইউনিয়নের মতো মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বিশ^নাথের দশঘর গ্রামের মানিক মিয়া বাদী হয়ে হাইকোর্টে ভোটার তালিকার উপর আপত্তি জানিয়ে রীট করেন। আদালত মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। সেই থেকে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় এ দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। ২০১৬ সালে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়নি। মীরপুর ইউনিয়নের সর্বদলীয় নির্বাচন বাস্তবায়ন পরিষদ’র আহবায়ক মাওলানা মহিউদ্দিন এমরান বলেন, মীরপুর ও দশঘর এ দুটি ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে হাইকোটের্ বিচারাধীন থাকা রিট পিটিশন ৮৫২৬/২০১৩ খারিজ করে দিয়ে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ইউনিয়ন দ’ুটিতে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. আশরাফুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চ গত ২৮ আগষ্ট এই আদেশ দেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন দুটির বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনে আগ্রহী সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীই মাঠে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।
মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন বলেন, পরিষদের ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর ১২ জন থাকার কথা থাকলেও ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আরশ আলী ও ৩নং ওয়ার্ড সদস্য হারুন মিয়া নির্বাচনের দুইবছর পর থেকে যুক্তরাজ্যে চলে যান। গত চার-পাঁচ বছর থেকে ১নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদির ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস ছোবহান অসুস্থ হয়ে পরিষদে আসতে পারছেন না। অন্য আটজনকে নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান ও বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের নির্বাচন বিষয়ে এখনো আদালত কিংবা নির্বাচন কমিশনের কোন নির্দেশনা পাইনি। তবে শুনেছি মামলা খারিজ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথে নির্বাচনের আয়োজন করব।