মীরেরচর প্রাচীন শাহী ঈদগাহ উন্নয়নের দাবি বাইশ গ্রামের মানুষের

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মীরেরচর এলাকায় প্রাচীন শাহী ঈদগাহটি ৫০ বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রতি বছর ঈদের জামায়াতে আসা প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি জায়গা সংকটসহ নানা ভোগান্তিতে পড়েন। ঈদগাহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে গত এপ্রিল মাসে আবেদন জানিয়েছেন ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ। তাঁরা এই প্রাচীন ঈদগাহের দ্রুত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাইশ গ্রামের মানুষের উদ্যোগে প্রায় ৬০ বছর আগে মীরেরচর গ্রামে এই শাহী ঈদগাহ ২ একর ১০ শতাংশ ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার মানুষ চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে ঈদগাহের কিছু অংশে মাটি ভরাট ও পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তখন ঈদগাহের দক্ষিণ দিকের বৃহৎ একটি অংশের পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ফ্লোর পাকাকরণ সম্ভব হয়নি। সীমানা প্রাচীরের বাইরের এই অংশটুকু আশপাশের মানুষের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং গরু-ছাগলের বিচরণ ভূমি হিসাবে পড়ে আছে। শাহী ঈদগাহের সকল সমস্যা নিরসনে পাকা সীমানা প্রাচীর, ফ্লোর পাকা ও নানা সংস্কার কাজসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য একাধিকবার এলাকার মুসল্লিরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে গিয়েও কোনো উন্নয়ন করাতে সক্ষম হননি।
মীরেরচর শাহী ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বোরহান আহমেদ বলেন,‘এখন পর্যন্ত এই শাহী ঈদগাহ’র সরকারি বরাদ্দে সীমানা প্রাচীর বা ফ্লোরের উন্নয়ন কাজ হয়নি। এসব উন্নয়ন কাজের জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলরা সাড়া দেননি। এখন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে ঈদগাহ উন্নয়নে আবেদন জানিয়েছি। আমরা এই শাহী ঈদগাহের দ্রুত উন্নয়ন চাই।’
কাজী মাও. শাহেদ আলী বলেন, ‘মীরেরচরের শাহী ঈদগাহ, এলাকার একটি প্রাচীন ও বড় ঈদগাহ। এই ঈদগাহ বাইশ গ্রামের মুসল্লি নয়, বড় জামায়াতে শরীক হতে দূর দূরান্ত থেকে প্রায় ৫০ গ্রামের মুসল্লিরাও এখানে আসেন। প্রতি বছর ঈদের জামায়াতের মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে মুসল্লীদের সমস্যা হয়। ঈদগাহের অতিরিক্ত জায়গাটুকু সংস্কার হলে সমস্যা কিছুটা নিরসন হতো। আমরা ঈদগাহের উন্নয়নের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি। এই ঈদগাহের উন্নয়নে কেউ এগিয়ে আসেন না। এবার আবেদন করা হয়েছে জেলা পরিষদে।’