মুইট্যা তৈরী করে সাবলম্বী

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলায় অর্ধশত গ্রামে ঘুটে (মুইট্যা) তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে সীমানা প্রাচীরে বিভিন্ন বেড়ায় এমনকি খালি জমিতে ঘুটে (মুইট্যা) শুকাচ্ছে নারীরা। নি¤œ আয়ের গৃহস্থ বাড়িতে গোবরের ঘুটে তৈরী করে রোদে শুকাচ্ছে নারীরা। এতে নিজেদের রান্না-বান্নার পাশাপাশি ঘুটে বিক্রি করে আয় করে অনেকে সাবলম্বী হয়েছেন। উপজেলার রামপুর, ভুতিয়ারপুর, শরীফপুর, আলীপুর, মুরলপুর, আমানীপুর, কাশিপুর সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামে ঘুটে তৈরির কাজ করছেন নারীরা। রোদে ঘুটেগুলো শুকিয়ে জ¦ালানীর উপযোগী করে কেউ জ¦ালানী হিসাবে ব্যবহার করছেন, আবার কেউ বিক্রি করে টাকা রোজগার করছেন।
জামালগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় ঘুটেকে বলা হয় মুইট্যা। বাঁশের কঞ্জি, গাছের চিকন ডাল, পাটকাটি ও হাওর থেকে সংগ্রহ করা উজারী গাছের ডালে গোবর আর কোরা মিশ্রণ করে তৈরী করে ঘুটে বা মুইট্যা।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের স্ত্রী পিয়ারা খাতুন, আলীপুর গ্রামের নীল বানু ও খতবানু বলেন, ৪টি হালের গরু আছে, গরু থেকে গোয়ালে প্রতিদিন সকালে যে গোবর পাই, তা দিয়ে মুইট্যা তৈরী করি। বর্ষাকালে মাটিতে গর্ত করে গোবর জমিয়ে রাখি।
তারা আরও জানান, প্রতিটি গোবরের মুইট্যা পাঁচ টাকা করে বিক্রি করেন। এই মুইট্যা দিয়ে বছরের বেশীভাগ সময় চুলা জ্বালাই। এছাড়াও মুইট্যা বিক্রি করে ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ চালাই।
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার জানান, গরুর গোবর কৃষকের জন্য আর্শীবাদ। গরুর গোবর সবজি চাষে সার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। বেশীর ভাগ নারীরা তাজা গোবরে মুইট্যা তৈরী করে জ¦ালানী হিসাবে ব্যবহার করে। এতে তাদের পরিবারের চাহিদা পূরণ করে, যাদের গরু নাই সেসব পরিবারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে। তাছাড়াও ঘুটের ছাই কৃষকের জমিতে পোকা-মাকড় ধ্বংসে ব্যবহার করা হচ্ছে।