মুক্তিযোদ্ধাকে ভুল বুঝিয়ে যুদ্ধাপরাধের মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
দলীয় কোন্দলে জড়িত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অশীতিপর এক মুক্তিযোদ্ধাকে ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ মাস বয়সি শিশুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত ২০ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করালেন তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিুকুল ইসলাম। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের জন্য পাঠান। সোমবার এই প্রতিবেদকের অফিসে এসে মামলার বাদী ওই মুক্তিযোদ্ধা সুজাফর আলী বলেন, ‘আমাকে ব্যাংক ঋণ তুলে দেবার কথা বলে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসেন তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক শফিকুল। এরপর একটি কাগজে সই দেবার কথা বলেন। আমি কাগজে সই দেবার পর জানালেন, কোর্টে দাঁড়াতে হবে, আমি বললাম কেন, বললো পরে বুঝাবো। এরপর শুনি আমাকে দিয়ে তাহিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, সমকালের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলামের নামে যুদ্ধাপরাধের মামলা করানো হয়েছে।’
জন্মসনদ অনুযায়ী আমিনুল ইসলামের জন্ম তারিখ পহেলা আগস্ট ১৯৭১। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয় তখন তার বয়স ছিল ৫ মাস। ৫ মাসের শিশু কিভাবে যুদ্ধাপারাধে জড়িত থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সকল মহলে। দৈনিক সমকাল সহ কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এই
নিয়ে সংবাদ এবং সম্পাদকীয়ও ছাপা হয়।
সোমবার মুক্তিযোদ্ধা সুজাফর আলী ওই একই আদালতে (আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ) হাজির হয়ে মামলাটি বিনা বিচারে প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মোকদ্দমাটিতে তথ্যগত কিছু ভুল ধরা পড়ায় আমি এই মোকদ্দমা চালাতে ইচ্ছুক নই। মোকদ্দমাটি আপোশের শর্তে বিনা বিচারে প্রত্যাহারের আবেদন জানান ওই মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা সুজাফর আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করানোয় আমি লজ্জিত হয়েছি। আমি সহজ সরল মানুষ, শফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের নেতা, তাকে বিশ্বাস করে আমি হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। আমাকে ঋণ দেবার কথা বলে সুনামগঞ্জে আনা হয়। আইনজীবী ভবনের দোতলায় তুলে তাঁর ভাগ্নে’র (একজন আইনজীবী) সামনে নিয়ে যায়। পরে একটি কাগজে সই নিয়ে বলে আরও মুক্তিযোদ্ধা এখানে স্বাক্ষর করেছেন। তারাও আসবেন। এরপর কেবল আমাকেই কোর্টে তোলা হয়। এ প্রতারণার বিচার চাই আমি। মামলাটি প্রত্যাহারের জন্যও সোমবার আদালতে আবেদন করেছি আমি।
সুজাফর আলী’র মেয়ে সুফিয়া আনাছ জানালেন, আমার বাবার সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা শফিকুল ইসলামের প্রতারণার বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে নালিশ করেছি।
এ প্রতিবেদককে সুফিয়া আনাছ জানালেন, আমার বাবাকে দিয়ে এমন প্রতারণা কেন করলেন মুঠোফোনে শফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাস করায়, তিনি আমাকে ধমক দেন এবং ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুফিয়া’র লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলামের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, সুজাফর আলী যাই বলুক, এই মামলা দায়েরের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।