মুক্ত খালেদা জিয়া

সু.খবর ডেস্ক
দীর্ঘ ২ বছর ১ মাস ১৭ দিন (৭৭৬ দিন) পর কারা হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তিনি মুক্তি পান। দুপুর ৩টা ৫ মিনিটের দিকে খালেদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করেন। এর আগে খালেদা জিয়ার রুমের ভেতরে যান ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ভাইয়ের ছেলে অভিক ইস্কান্দার, তারেক রহমানের স্ত্রীর বড় বোন শাহিনা জামান খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও শামা ওবায়েদ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমসহ কয়েকশ দলীয় নেতাকর্মী।
…খালেদা জিয়ার নিজের গাড়িসহ প্রোটেকশনের একটি গাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ) চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স ও দুটি মাইক্রোবাস রয়েছে তার গাড়ি বহরে। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের গাড়ি রয়েছে।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার মুক্তির চিঠি নিয়ে যান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী।
রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের নিজের বাসভবন ফিরোজায় তিনি সরাসরি ফিরছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে। এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ওই ভবন থেকেই পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকে গত বছরের ১ এপ্রিল তাকে নিয়ে আসা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। এতদিন তিনি কারাবন্দি অবস্থায় এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
২০১০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বাসভবন ছেড়ে গুলশানে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাসায় ওঠেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। ওই বছরই গুলশান ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর ফিরোজা নামের এ বাড়িটি ভাড়া নেন খালেদা জিয়া।
২০০১-২০০৬ পর্যন্ত খালেদা জিয়া সরকারের প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের ছেলের ওই বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার পর সংস্কার করে ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল ভাইয়ের বাসা ছেড়ে ওই বাড়িতে ওঠেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ওই বাড়িতে গৃহকর্মী ছাড়া আর কেউ বসবাস করেননি। তবে তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি মাঝে মধ্যে লন্ডন থেকে ঢাকায় এলে উঠতেন ওই বাড়িতে।
জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসউইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বাড়ি রেডি আছে। বাড়িতে ম্যাডামের সিএসএফ (চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্য ও তার সঙ্গে যারা থাকতেন, তারা আছেন।
এর আগে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত ৫ বছরের সাজা দেয়, পরে আপিলে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে দেওয়া হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় বিচারিক আদালত ৭ বছরের সাজা দেয়। এই মামলাটি এখন হাইকোর্টে রয়েছে। বাকি ৩৪টি মামলায় জামিনে আছেন খালেদা জিয়া। গত বছর ১ এপ্রিল অসুস্থতার কারণে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক প্রায় এক বছর কারা হেফাজতে তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম