মুখ খোলছেন না ভোটাররা

সুব্রত কুমার দাশ খোকন, শাল্লা
প্রতাপপুর বাজার। শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণের কুশিয়ারা নদীর লাগোয়া একটি বাজার। সেখানে পৌছাতেই মানুষের একাধিক জটলা চোখে পড়ে। কেউ বেঞ্চে বসে, কেউ চেয়ারে আবার কেউবা দাঁড়িয়ে খোশ গল্পে মত্ত। কেউ কেউ চায়ের ফরমাশ দিয়ে আড্ডা জমিয়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে কে জিতবেন, তাই নিয়ে আড্ডায় চুল-চেরা বিশ্লেষণ।
এ দৃশ্য গতকাল রোববার বেলা ১টার। সেখানে আড্ডা ১০ জন ভোটারের সাথে কথা হয়। তাদের অভিন্ন মতামত, এবার সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিগত নির্বাচনের তুলনায় জটিল রুপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন ভাবেই আঁচ করা যাচ্ছে না, কোন প্রার্থীর অবস্থান আসলেই ভাল। প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের সাথে দলটির বিদ্রোহীদের এবং আটগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সাথে বিএনপি ঘরনার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন তারা।
এসব ভোটারের মতে ১নং আটগাঁও ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. এমদাদুল হকের সাথে বিএনপি ঘরনার স্বতন্ত্র প্রাথী আব্দুল্লাহ আন নুমানের, ২নং হবিবপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রঞ্জিত কুমার দাসের সাথে দলটির বিদ্রোহী সুবল চন্দ্র দাসের, বাহাড়া ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাজল কান্তি চৌধুরী সাথে দলটির বিদ্রোহী বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টুর এবং ৪নং শাল্লা ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুস সাত্তার মিয়ার সাথে দলটির বিদ্রোহী আবুল লেইছ চৌধুরীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে ১নং আটগাঁও ইউনিয়নে মাফিকুল ইসলাম, মো: সুলতান মিয়া, মো: জাকির হোসেন হান্নান, মাসুদ আল কাউসার, ২নং হবিবপুর ইউনিয়নে ঝুমন দাস আপন, রাজীব কান্তি দাস শক্তি, ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নে মাধবী রানী তালুকদার, ৪নং শাল্লা ইউপিতে মো: শহীদুল ইসলাম ও সমরেন্দ্র চন্দ্র সরকার নির্বাচনী প্রচারণা করছেন।
গতকাল বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় অর্ধ শতাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। তাদের অধিকাংশেরই ভাষ্য সৎ, মেধাবী, গ্রহণযোগ্য ও উন্নয়নে বিশ্বাসী প্রাথীকেই তারা ভোট দেবেন। আর একারণেই শেষ মুহূর্তে এসে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থার চুল-চেরা বিশ্লেষণ করছেন ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতাপুরের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র দাস (৫২) জানান, আবেগ তাড়িত হয়ে নয়, যে ভাল মানুষ তাকেই ভোট দেব। মামুদনগরের ফুরকান মিয়া (২৮) বলেন- তারা বুঝে-শুনে উন্নয়নে আন্তরিক ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চান। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী কৃষ্ণপদ দাশ (৪২) বলেন- মানুষ প্রতীক নয়, ভোট দেবে ব্যক্তি দেখে, যে ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা বেশী, তিনি এবার ভোটে জয় লাভ করবেন। কৃষি শ্রমিক আক্তার মিয়া বলেন- ভোটের আগে যাচাই-বাছাই করে পরিস্থিতি যার অনুকূলে দেখবেন, তাকেই ভোট দেবেন।
আগামী ৫ জানুয়ারি শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট তাই আজ প্রচারণার শেষদিন হওয়ায় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। নৌকার পাশাপাশি ঘোড়া, আনারস, মোটর সাইকেল, লাঙ্গল ইত্যাদি প্রতীকের প্রচারণা ছিল লক্ষণীয়। আচরণিক বিধি ভঙ্গ করে বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন ব্যাপী মাইকযোগে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রার্থীদের সমর্থনে শতাধিক মোটর সাইকেলের সাহায্যে মিছিল করা হচ্ছে।