মুখ থুবড়ে পড়েছে নারী উন্নয়ন কার্যক্রম

দিরাই প্রতিনিধি
‘টাকা দেও, পঞ্চাশ টাকা করে। আগে ছিলো ২০ টাকা, তখন চাউলের কেজি ছিলো ১০ টাকা/৬ টাকা। এতো জবাবদিহি করা যাবে না। টাকা দিয়ে ফরম নিতে পারলে নেন, নাহয় চলে যান। সরকারে করুক বা আমিই করি, বেশী কথা বলোনা।’ অফিস সহকারির চেয়ারে বসে প্রশিক্ষণের আবেদনকারীদের সাথে এভাবেই কথা বলছিলেন দিরাই মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক রুখসানা বেগম। তার এমন বক্তব্যটি নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন এক ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থী। রবিবার ভিডিওটি এ প্রতিবেদকের কাছে তুলে দেন ঐ প্রশিক্ষণার্থী।
রুখসানা বেগম একই কর্মস্থলে ২৫ থেকে ৩০ বছর যাবত চাকুরী করার সুবাদে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট। তার সব অপকর্মে সহায়তা করছেন অফিস সহকারি সত্যপদ দাস। তিনিও ২০১১ সাল থেকে একই অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার ক্ষমতাবলে নিজের সহোদর বোনকে দিয়ে গ্রামীণ মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামে সংগঠন করে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে দিরাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কথা বলার সাহস করতে পারেননা ভুক্তভোগীরা। যার ফলে হাওরবেষ্টিত উপজেলার নারী উন্নয়ন কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকার নারী উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা কাজে আসছে না।
স্থানীয়রা জানান, কর্মসংস্থানের অভাবে কয়েক হাজার শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বেকার দরিদ্র নারী কাজের খোঁজে ঢাকা, চট্রগ্রাম সহ মধ্যপ্রাচ্যে পারি জমিয়েছে। অথচ সরকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও হাওরাঞ্চলের নারীরা সংশ্লিষ্ট অফিসের দুর্নীতির ফলে এই সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কাগজে কলমে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর নারী উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরলেও বাস্তবে এর কোন অস্তিত্বের খোঁজ মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বৎসর ৪টি ব্যাচে সেলাই ও ব্লক-বাটিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। রাজস্ব খাত থেকে পরিচালিত সেলাই প্রশিক্ষণে প্রতি ব্যাচে ৩০জন ও প্রকল্প খাত খেকে পরিচালিত প্রতি ব্যাচে ২০জন এবং ব্লক বাটিকে প্রতি ব্যাচে ২০জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়। প্রতি ব্যাচে এসব প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শত শত বেকার নারীরা আবেদন করে। আবেদনকারী এসব দরিদ্র মহিলাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০টাকা করে আদায় করছেন অফিস সহায়ক রুখসানা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রশিক্ষণার্থী জানান, প্রশিক্ষণে চূড়ান্ত হতে ও প্রশিক্ষণ শেষে ভাতা উত্তোলনকালে রুখসানা ও অফিস সহকারী সত্যপদ দাসকে তাদের চাহিদামতো টাকা দেওয়া লাগে।
উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কালীনগর গ্রামের ফাহিমা ও আয়েশা, করিমপুর ইউনিয়নের তাজপুর নয়াহাটি গ্রামের পারুল বেগম, রফিনগর ইউনিয়নের বারোঘর ভাটিবাংলা মহিলা সমিতির সভাপতি মহামায়া দাস জানান, বারাবার ধর্ণা দিয়েও রুখসানা ও সত্যপদ দাসকে চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় আমাদের মতো অনেকেই প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাদের আধিপত্য বিস্তার ও অনিয়ম দুর্নীতির কারণে হাওর অঞ্চলের নারীরা সরকারের সবধরণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুসরাত ফেরদৌসী বলেন, আমি আজই অভিযোগটি পেয়েছি। এবিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অফিসিয়ালি তাদের কাছে আজই নোটিশ প্রদান করা হবে।