মুখ রক্ষার বরখাস্ত নয় শুদ্ধি অভিযানকে মন থেকে সহায়তা করুন

তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিনকে রক্তি নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনাটি হাস্যকর। কারণ যুব লীগ এই নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর। অর্থাৎ মুখ রক্ষার খাতিরেই এই সাময়িক বরখাস্ত। জিয়া উদ্দিন নিশ্চয়ই শুধু গ্রেপ্তার হওয়ার দিনই চাঁদাবাজিতে জড়িত হননি। রক্তি, জাদুকাটা বা চলতি নদীতে চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্য অনেক পুরোনো। জিয়া উদ্দিন নিশ্চয়ই এই পুরোনো ব্যবসার দীর্ঘদিনের একজন নি¤œস্তরের কর্মী। চাঁদাবাজিতে তার জড়িত থাকার কথাটি স্থানীয় সংগঠনের জ্ঞাত ছিল না এমনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। বরং জিয়াউদ্দিনের উপরের স্তরের কোনো কর্তা তার নিয়োগদাতা অথবা ত্রাণকর্তা হওয়ারই কথা। এমনটিই ঘটছে সারা দেশে। গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জিয়াউদ্দিনরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির বখরা নিশ্চয়ই উপর মহলে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু জিয়া উদ্দিনের শেষ রক্ষা হলো না। তার থানকিদাররা তাকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেনি। অবৈধ ও অন্ধকার জগতের কাজে এমনই হয়। কাজের বেলায় কাজী আর কাজ ফুরালেই পাজি। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর জিয়া উদ্দিনের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাকে আঁখের ছোবড়ার মতো ছিটকে ফেলতে কারও বিন্দুমাত্র অনুকম্পা হবে না। যুগে যুগে এই-ই হয়ে আসছে। জিয়াউদ্দিনরা ধরা খায় আর উপরের তারা বহাল তবিয়তে আবারও অন্য কোনো জিয়া উদ্দিনদের রিক্রুট করে সেই অভাব পূরণ করে।
শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানের সময়ে জিয়া উদ্দিনের ধরা পড়াটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এদিনই রক্তি নদীতেই চাঁদাবাজির অভিযোগে র‌্যাব সেলিম ও মৃদুল নামের ২ চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অর্থাৎ ররিবার তাহিরপুরের রক্তিসনদীর চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অন্তত দুইটি কার্যকর অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে আমাদের কথা হলো এই চুঁনোপুটিদের ধরে কাজ হবে না। এদের ধরার একটিই লাভ হতে পারে, ধৃতদের মাধ্যমে তাদের উপরের স্তরের বস ও সিন্ডিকেট প্রধানের পরিচয় অবগত হওয়া। জিয়াউদ্দিনদের ধরে যদি তাদের বসদের ধরা না হয় তাহলে এসব অভিযান অর্থহীন হতে বাধ্য। কারণ ওই যে আগে বলা হলো, পাইপলাইন থেকে একজন অপসৃত হলে আরেক জনকে এই জায়গায় এনে বসিয়ে দেয়া হবে। নৌপথে চাঁদাবাজি বলুন আর যেকোনো অপকর্মই বলুন, শক্তিশালী গডফাদারদের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া সেগুলো চলতে পারে না। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়াও এইসব চাঁদাবাজি বেশিদিন টিকতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যেই হোক সে যদি নিজের দলেরও হয়, তারও রক্ষা নেই। সরকার প্রধানের এই মনোভাব উপলব্ধি করে মাঠে কাজ না করলে এক জিয়া উদ্দিনকে ধরে কোনো কাজ হবে না।
তাহিরপুরের যুব লীগ যদি গ্রেপ্তারের আগেই জিয়া উদ্দিনকে দল থেকে বের করে দিত কিংবা শেখ হাসিনার ঘোষণার পর আর যারা অনৈতিক কর্মকা-ে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে শুরু করত তাহলে সেটি হত প্রশংসনীয়। ক্ষমতাসীন দল এরকম দৃষ্টান্ত তৈরি করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষেও কাজ করতে সুবিধা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিবারই বিশ্বম্ভরপুরের এক সমাবেশে দুর্নীতিবাজদের সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দলের উচ্চ পর্যায় থেকে আগত এইসব বার্তা অনুধাবন ও অনুসরণ করতে হবে স্থানীয় সংগঠনগুলোকে। নতুবা মুখ রক্ষার জন্য এক জিয়া উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যাবে না কিছুতেই। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এক কঠিন কাজে হাত দিয়েছেন। দলের প্রতিটি পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত।