মুজিববর্ষে উৎসবে উজ্জীবিত হবে হাওরবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি
মুজিববর্ষে উৎসবে উজ্জীবিত হবে হাওরবাসী। হাওরের চার জেলার মধ্যে তিন জেলার মধ্যবর্তী স্থান শাল্লা উপজেলার শাল্লা গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে ৩ দিনের হাওর উৎসবের। ২৮ মার্চ বেলা আড়াইটায় উৎসবের উদ্বোধন করবেন হাওরবাসী’র গর্ব কিশোরগঞ্জের মিটামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামের সন্তান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। ৩ দিনের এই উৎসব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাওরবাসীর আরেক প্রিয় মানুষ সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সন্তান পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপিকে।
হাওরের একেবারে তলানির উপজেলায় এই আয়োজনে উদ্বেলিত শাল্লাবাসী। একেবারে অনুষ্ঠানস্থলে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে দিরাই-শাল্লা হয়ে অথবা আজমিরিগঞ্জ হয়ে গাড়ীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে এলজিইডি। ডুবন্ত সড়ককে সংস্কার করা হচ্ছে। মাটির সড়ককে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে শাল্লায় সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখেছেন। শাল্লা উপজেলা সদরের পাশে রাষ্ট্রপতি নেমে বাজারের ভেতর দিয়ে যে সড়ক দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন, সেই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
সিলেটের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানস্থলের পাশে শাল্লা আসলম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে চার তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। মুজিববর্ষ উপলক্ষেই এই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী বললেন, শাল্লাবাসী হাওরের কৃতী সন্তান মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের গ্রামের মানুষ নিজেদের বশতঘরকে গোছাচ্ছে, সংস্কার করছে। সকলেই মনে করছে উৎসব উপলক্ষে নিজেদের অতিথিরাও আসতে পারেন তাঁদের ঘরে। এজন্য তাঁদেরও নানা প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়েছে।
উৎসব কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আবুল কালাম চৌধুরী বললেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জবাসীর উদ্যোগ মূলত এটি। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ’এর সংযোগস্থলে শাল্লা গ্রামের পাশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ২৮ মার্চ বেলা আড়াইটায় রাষ্ট্রপতি উৎসবের উদ্বোধন করবেন। ১০০ বৃক্ষরোপণ একসঙ্গে করা হবে। বিকালে থাকবে সাংস্কৃতিক আয়োজন। গ্রামীণ মেলা’রও আয়োজন রয়েছে। পরের দিন আলোচনা, বঙ্গবন্ধু’র উপর নির্মিত চলচ্ছিত্র থাকবে। সাংবাদিক সাইক সিরাজের উপস্থাপনায় কৃষকদের অংশগ্রহণমূলক অনুষ্ঠানের চিন্তা করা হচ্ছে। হাওরের কৃষ্টি সংস্কৃতি তুলে ধরার নানা আয়োজন থাকবে। কৃষিপণ্য মেলা’রও আয়োজন করা হবে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন চিন্তা করেই অনুষ্ঠান সাঝানো হচ্ছে।
উৎসব প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে- সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খাঁন, সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা, সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমদ তৌফিককে। সদস্য করা হয়েছে হাওর এলাকার সকল সম্মানিত সংসদ সদস্যগ কে, শাল্লার সন্তান এডিশনাল আইজি চৌধুরী আব্দুল্লা আল মাহমুদ এবং শাল্লা, ইটনা, কালিয়াজুরি ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকেও সদস্য করা হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ পরিকল্পনামন্ত্রী’র ঢাকার মন্ত্রী পাড়া’র বাসভবনে আয়োজক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় উৎসবের সবকিছুই চূড়ান্ত হবে বলে জানান উৎসব কমিটির সদস্য সচিব ডা. আবুল কালাম চৌধুরী।