মূমুর্ষ রোগী বহন নিয়ে বেকায়দায় স্বজনরা

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার ১১ উপজেলার কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী বহন করার জন্য একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স। একারণে প্রায়ই মূমুর্ষ রোগী বহন নিয়ে বেকায়দায় পড়ছেন রোগীর অভিভাবকরা। কোভিড আক্রান্তদের বহন করার জন্য ভাড়ায়ও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সন্ধায় সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের একজন স্টাফকে (জেলা প্রশাসকের নাজির) সিলেটে নিয়ে যাবার জন্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় নি। পরে নি¤œমানের একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে কোনভাবে তাকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এভাবে প্রায়ই বেকায়দায় পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।
সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, ২৫ লাখ মানুষের জেলা সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় কোভিড আক্রান্ত ১৩৩ জনের জন্য আইসোলেসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০০ জনের এবং জেলার ১১ উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে ৩৩ জনের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা সদরে ভেন্টিলেটর যন্ত্র না থাকায় ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হলেই কোভিড-১৯ রোগীকে সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। করোনাকাল শুরু হবার পর থেকে সদর হাসপাতাল থেকেই এমন ৪ রোগীকে সিলেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা সদর বা বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন এমন আরও অসংখ্য রোগীকে ভ্যান্টিলেশনের প্রয়োজনে সিলেটে নিতে হয়েছে। কোভিড আক্রান্ত এই রোগীদের সিলেটে নিয়ে যাবার সময় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বজনরা। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, একটি কোভিড আক্রান্তদের বহনের জন্য, অন্যটি অন্য রোগী বহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স করোনাকালে ব্যবহারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির স্বাস্থ্য বিভাগকে দিয়েছিলেন। এটি নমুনা সংগ্রহসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রয়োজনে ব্যবহার হচ্ছে। জেলার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ওই উপজেলাগুলোয় কোভিড আক্রান্তদের বহনের জন্য কোন অ্যাম্বুলেন্স নেই। এই অবস্থায় মূমুর্ষ রোগীদের নিয়ে প্রায়ই বেকায়দায় পড়েন স্বজনরা।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত জানান, করোনা রোগীদের উপযুক্ত পূর্ণঙ্গ হাসপাতাল হয়ে ওঠেনি জেলার কোন হাসপাতালই। এই অবস্থায় প্রায়ই করোনা আক্রান্তদের সিলেটের শামছুদ্দিন হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় বহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ী নিয়ে, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স একটি, একজন রোগী বহন করে অ্যাম্বুলেন্স সিলেটে চলে গেলে, অন্যদের বিপদে পড়তে হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও এভাবে একজন রোগীকে নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পরে পুরাতন একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে কোনভাবে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শামস উদ্দিন বললেন, একটি অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকা জরুরি। অ্যাম্বুলেন্স কোন কোন দিন দেখা যাবে, একটিও ব্যবহার হচ্ছে না। আবার কোনদিন দুটোরও প্রয়োজন হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেভাবেই প্রয়োজন পড়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে, সেটি এখনো পাওয়া যায় নি।