মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা

সবিতা বীর
আজকাল চারিদিকে মূল্যবোধের ও নৈতিক শিক্ষার চরম অবক্ষয় পরিলক্ষিত হ্চ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের সমাজে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দিন দিন বৃদ্ধি পা”্ছ।ে ম্ানুষ আতংকিত থাকে সবসময়। এর একমাত্র কারণ নৈতিক শিক্ষার অভাব। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। এইজন্য প্রয়োজন তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। বিশেষ করে পারিবারিক শিক্ষার প্রয়োজন সর্বাগ্রে। সাথে সাথে ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজন। যে সমাজের নৈতিক শিক্ষার ভিত যত মজবুত সে সম্জা তত বেশী সভ্য ও উন্নত সংস্কৃতির দাবীদার। নৈতিক শিক্ষায় মজবুত হতে হলে প্রথমেই মিথ্যা কথা বর্জন করতে হবে। লোভ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ লোভ থেকেই সমস্ত পাপের উৎপত্তি। সমাজের মানুষ হিসাবে সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধনে কাজ করতে সচেষ্ট হতে হবে । যথার্থ শিক্ষা যার ভিতরে রয়েছে সে তো সর্বদা অন্যের কল্যাণ বা সহায়তা দেবার চিন্তা করবে। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে হবে। নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকলে চলবে না। আমরা জানি ভদ্রতা দেখাতে পয়সা খরচ হয় না কিন্তু এর বিনিময়ে অনেক কিছু লাভ করা যায়। সেহেতু এই ভদ্রতা দেখাতে কার্পণ্য করা উচিত না। বড়দের সম্মান করা ভালবাসা অবশ্যই আমাদের প্রধান কর্তব্য।
শিক্ষকদের ভুমিকা এ ক্ষেএে অপরিহার্য। কারণ ছাত্ররা শিক্ষকদের কথার গুরুত্ব দেয় সবচেয়ে বেশী। সেহেতু শিক্ষকদের উচিত পাঠ্যবই শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন তাদেরকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষা দেয়া। যাতে ছাত্ররা সবধরনের অন্যায় কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকে। মাদকাসক্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে ছাত্রদেরকে। মাদকের মত মরণব্যাধির নেশায় যাতে তাদের জীবন নষ্ট না হয় সে বিষয়ে তাদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে। আজকাল ছাত্ররা আরেকটি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে সেটি হল ইন্টারনেট এর নেশা। এটা মাদকের নেশার চেয়্ওে ভয়াবহ। সেটির ভয়াবহতা যে কতটুকু ক্ষতিকর সে ব্যাপারে তাদেরকে জানাতে হবে । তাদেরকে বুঝাতে হবে যে ইন্টারনেট জানতে হবে শিখতে হবে । কিন্তুু সেটা যেন নেশায় পরিণত না হয়। কারণ ছাত্রদের প্রধান ্ও প্রথম কাজ হল পড়াশুনা। সমাজের অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাজে যাতে ছাত্ররা এগিয়ে যায় সে ব্যাপারে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা। যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা সেবাই ধর্ম এই ভাবটাকে ব্রত হিসাবে গ্রহণ করে।
মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা ্ও আচার ব্যবহার যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে তাহলে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে সেরা কাজগুলো করে এই পৃথিবীর বুকে একটা দাগ রেখে যেতে পারবে। এছাড়া এই পৃথিবীর সন্ত্রাস হানাহানি মানুষে মানুষে বৈষম্য কমে যাবে। এই পৃথিবী হবে আরো সুন্দর। সমাজের মানুষ তখন নির্ভয়ে পথ চলতে পারবে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আতংকিত হয়ে থাকতে হবে না।
মূল্যবোধের শিক্ষা যত মজবুত হবে দেশে সুশাসন তত বেশী মজবুত হবে। দেশ তত বেশী এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি তত বেশী সমৃদ্ধ হবে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অনুপস্থিতি ঘটলে সমাজ্ ভেঙ্গে পড়ে। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে মূল্যবোধভিত্তিক আর্দশ সমাজ ্ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আমাদেরকে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে হবে। সৎ কর্মই মানুষকে সততা ্ও মূল্যবোধের শীর্ষে প্ৗেছতে সহায়তা করে।
আমাদের সমাজে আমরা দেখতে পাই নৈতিকতা ্ও মূল্যবোধের যথেষ্ট অভাব। তাই আমার অ্ভিমত এখনই সঠিক সময়, এখনই সবাইকে সচেতন করে তোলা সুন্দর সুস্থ বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির জন্য। তাইতো বিবেকানন্দ তাঁর শিক্ষা দর্শনে প্রাথমিক সÍর থেকেই পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধ শিক্ষায় প্রকৃত দীক্ষাদানের কথা বলেছেন। আর এই মূল্যবোধ শিক্ষাটি প্রথমে শিক্ষককেই রপ্ত করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
নৈতিক দিক দিয়ে যদি র্আও উন্নত হতে চাই তবে আমাদেরকে অবশ্যই নীতিপরায়ণ হতে হবে। ভাল চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। পরার্থে কাজ করতে হবে। নিঃস্বার্থে কাজ করার মনমানসিকতা থাকতে হবে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আমাদের উচিত মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হ্ওয়া। মূল্যবোধের চর্চা করা। স্বামী বিবেকানন্দ মূল্যবোধের একটা অর্থ দিয়েছেন, একটা সার্বজনীন সংজ্ঞা দিয়েছেন। মূল্যবোধ তাকেই বলা হয় যেটা নিঃস্বার্থ আর যেটার মধ্যে স্বার্থই সব সেটাই হ”্ছে মূল্যবোধহীনতা বা নীতি-হীনতা। তাই যে শিক্ষা আমাদেরকে মূল্যবোধ সম্পন্ন বা নীতিপরায়ণ করবে না সেই শিক্ষার দরকার নেই।
আমাদের ব্যবহারই্ বলে দেয় আমাদের মূল্যবোধের শিক্ষা কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে। মূল্যবোধ মানুষের মন থেকে আসে। মনটাকে আগে ঠিক করতে হবে। মনটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সবকিছুই ঠিক হবে। আমাদেরকে মন মুখ এক করে কাজ করতে হবে। আমরা যে যেখানে আছি প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে গেলে অবশ্যই একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা ্সম্ভব। এই পৃথিবীটাকে র্আও সুন্দর করে আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া যায়। তার জন্য আমাদের ইচ্ছাই যথেষ্ট।
লেখক: প্রভাষক, সরকারি দিগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি কলেজ,বিশ্বম্ভরপুর,সুনামগঞ্জ।