মূল ক্লোজারটি অরক্ষিত

সোহেল তালুকদার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক; চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম হাওর দেখার হাওর। দেখার হাওরকে বলা হয় বোরো ভান্ডার। এ হাওরে রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর ফসলী জমি। চলতি বছর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর অংশের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধ খ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের মুল ক্লোজার ২২ নং পিআইসির অধীনে। পিআইসি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন। ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের সময়সীমা শেষ হতে চললেও প্রভাবশালী মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধিদের চাপে পিআইসি কমিটির লোকজন মূল ক্লোজারে কাজ করতে পারছেন না। বাঁধের মুল ক্লোজার ২২ নং পিআইসির অধীনে ৪৫০ মিটার অংশে কাজ না হওয়ায় দেখার হাওরের ১২ হাজার হেক্টর ফসলী জমি হুমকির মুখে রয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের মাচা, বাঁধের মাটি ভরাট সহ মূল ক্লোজারের কোনো কাজ শুরু হয়নি।
হাওরের কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, উথারিয়া ক্লোজার এই হাওরের ডেঞ্জার পয়েন্ট। এই ক্লোজার অরক্ষিত রেখে পুরো হাওরে কাজ করলে কোন লাভ হবে না। আগাম বন্যা আসলে আমাদের স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবো না। আমরা অনেক শংকায় আছি। প্রতি ৩ বছর পর পরই এই অঞ্চলে একবার আগাম বন্যা আসে।
এবার আবহাওয়ার অবস্থাও ভাল না। যে কোনো সময় আবহাওয়া প্রতিকূল হতে পারে।
পিআইসি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন জানান, দেখার হাওরের মূল ক্লোজারে কাজ করতে পারছি না। আমরা বাঁধে কাজ করতে চাইলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বড়দই বিলের মহাজন মনোয়ার মিয়া আমাদেরকে বাঁধের কাজ বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আল মামুন জানান, আমি দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের মুল ক্লোজার ২২ নং পিআইসি ও পিআইসি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিনকে একাধিকবার বাঁধের মূল ক্লোজার বন্ধ করার জন্য তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাত ও প্রভাবশালীদের বাধা দেখিয়ে কাজ করছে না। যদি বাঁধের মুল ক্লোজার বন্ধ না করে তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, উথারিয়া বাঁধের ক্লোজারে কাজ শুরু হয়েছে। বাঁধের কাজ হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, উথারিয়া ক্লোজার দিয়ে পানি নিষ্কাশনের বিষয় নিয়ে ঝামেলা আছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার যদি বাঁধ বন্ধ করতে বলেন তাহলে বন্ধ করা হবে। ইতিমধ্যে আমার এসও কে বলে দিয়েছি।