মূল ধারার গণমাধ্যমকর্মীরা এক থাকলে খুশি হতাম -জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ঢাকায় বদলী হয়ে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক অসুস্থ পঙ্কজ কান্তি দে’কে দেখে এসেছেন।
বুধবার বেলা ১১ টায় তার শহরের শহীদ আবুল হোসেন রোডের বাসভবনে যান জেলা প্রশাসক। এসময় তিনি পঙ্কজ দে’র দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন ও সুনামগঞ্জের নানা প্রসঙ্গে বেশকিছুক্ষণ কথা বলেন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ দে’র সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেছেন,‘বিদায় বেলা মূলধারায় কর্মরত সুনামগঞ্জের সকল গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পরিবেশ দেখে গেলে খুব খুশি হতাম। মূল ধারার গণমাধ্যমকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম-দুর্নীতি কিছুটা কম হয়। আমার অনুরোধ থাকবে সুনামগঞ্জের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে ও নানা স্তরে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সুনামগঞ্জের সুনাম রক্ষায় মূল ধারার গণমাধ্যমকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হবেন। আমি আশা করব একজন জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আপনি (পঙ্কজ কান্তি দে) এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। ’
তিনি আরও বলেন,‘ সুনামগঞ্জ অপার সম্ভবনাময় একটি জেলা। এই জেলার পর্যটন ও গানকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ হতে পারে। আমার পরিকল্পনা ও ইচ্ছা ছিল গৌরারং ও সুখাইড় জমিদার বাড়ি, ডলুরা, বাঁশতলা, লাউড় ও অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারী টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটনকে দেশ-বিদেশে তোলে ধরা এবং বিশেষ পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা। সুনামগঞ্জের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা।’
বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম আরও বলেন,‘ আমি সুনামগঞ্জ ছেড়ে চলে গেলেও আাপনারা সকল গণমাধ্যকর্মীরা লিখনির মাধ্যমে সুনামগঞ্জকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমার অনুরোধ থাকবে- সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে বালু-পাথরের সদব্যবহার করা, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করে বালু-পাথর উত্তোলন করা এবং এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিশেষ খেয়াল রাখবেন। হাওর-নদীর জেলার উন্নয়নে ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন আপনারা। সুনামগঞ্জের সকল গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি রইল আমার ভালবাসা।’
উল্লেখ্য, মো. সাবিরুল ইসলাম গত বছরের ২১ মে সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক পদে যোগাদান করেন। তিনি পাবনা সদরের বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আমিনুল ইসলাম বাদশার ছেলে। তিনি একসময় পাবনা জেলা প্রেসক্লাবের সাথে জড়িত ছিলেন। কিছু দিন দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জ থেকে তিনি ঢাকায় রাজউকের পরিচালক পদে বদলী হয়েছেন। সুনামগঞ্জের ইউনিয়ন পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর নির্মাণ ও বাস্তবায়নের জন্য ‘জনপ্রশাসক পদক’ পেয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন তিনি।