মেঘালয়ের কয়লা নামাতে সাহস পাচ্ছেন না আমদানীকারকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের মেঘালয় থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের চারাগাঁও ও বড়ছড়া দিয়ে কয়লা আমদানী শুরু হলেও আশানুরূপভাবে নামছে না কয়লা। আমদানীকারকরা বলেছেন, ভারতের মেঘালয়ের কয়লার গুণগত মান ভালো, তবে ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা ও চায়নার কয়লার মূল্য কম থাকায় আমদানী কারকরা বেশি পরিমানে কয়লার এলসি করছেন না। এই কারণে কয়লা আমদানী হচ্ছে কম।
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৩ বৃহৎ শুল্কবন্দর তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী দিয়ে করোনার কারণে আমদানী প্রায় ৭ মাস বন্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকালে প্রথম ৫ গাড়ী কয়লা নামে বড়ছড়া শুল্কস্টেশন দিয়ে। পর্যায়ক্রমে আমদানীর পরিমান বাড়লেও মঙ্গলবার দুই স্টেশন দিয়ে নেমেছে ১০১ গাড়ী কয়লা। আমদানী কারকদের অনেকে বলেছেন, ভারতের মেঘালয়ের কয়লার গুণগত মান সবচাইতে ভাল, কিন্তু ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা বা চীনের কয়লার চেয়ে দাম অনেক বেশি। একারণে এই কয়লা আমদানী করতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভূগছেন আমদানী কারকরা।
বিশিষ্ট আমদানীকারক ও সীমান্তের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খসরুল আলম বললেন, ইন্দোনেশিয়ার কয়লা বাংলাদেশে পৌঁছানো পর্যন্ত মূল্য দাঁড়ায় প্রতি টন ৭৫০০ টাকা। কিন্তু মেঘালয়ের কয়লা বড়ছড়া-চারাগাঁওয়ে পৌঁছাতে প্রতি টনের মূল্য দাঁড়ায় ১০ থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। মূল্যের ব্যবধান বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতার বাজারে এই কয়লা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমদানীকারক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক বললেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম কম। ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা বা চীন থেকে দেশের বড় বড় শিল্পপতিরা কয়লা আমদানী করছেন। তারা ভৈরব, আমিনবাজার, নোয়াপাড়া, কাঞ্চন, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কয়লা পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রতি টন কয়লার দাম পড়ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এছাড়া বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী’র আমদানী কারকদের কাছ থেকে কয়লা কেনার সময় ক্রেতারা বাকী নিতে চান। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া বা অন্য দেশগুলোর কয়লা যারা আমদানী কারকদের কাছ থেকে কিনেন তারা আগে টাকা দিতে হয়। এই অবস্থায় এখানকার আমদানী কারকরা এলসি করবেন কী-না দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। মেঘালয়ের কয়লা ৫-১০ কিলোমিটার দূর থেকে আমাদের দেশে পৌঁছায়। অথচ. হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা কয়লার চেয়ে দাম বেশি। এটা কেন হবে। এজন্য আমদানী ও রপ্তানী কারকদের বৈঠক করতে হবে। রপ্তানী কারকদের বুঝাতে হবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দাম কমাতে হবে। না হয় তাদেরও ব্যবসার ক্ষতি হবে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বললেন, ১১ হাজার টাকায় প্রতি টন কয়লা নামিয়ে ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন অনেকে। বার বার কীভাবে এভাবে লোকসান দেবেন। এই অবস্থায় এই তিন বন্দরের আমদানী কারকসহ লাখো মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা আমাদের প্রতিবেশি রাস্ট্রের কয়লাই বিক্রি করতে চাই। কিন্তু কয়লার দাম প্রতিযোগিতা মূলক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে বিক্রি করা কঠিন।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের সদস্য সচিব রাজেশ তালুকদার বললেন, মেঘালয়ের কয়লার গুণগত মান নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু দামের ব্যবধান বেশি। দামের বিষয়টি নিয়ে রপ্তানী কারকদেরও ভাবতে হবে।
প্রসঙ্গত. ভারতের ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল মার্চের প্রথম সপ্তাহে মেঘালয়ের ২ লাখ টন উত্তোলিত কয়লা মৌখিক চালানের ভিত্তিতে রপ্তানী করার আদেশ দিয়েছিলেন। মেঘালয়ে ৩২ লাখ টন উত্তোলিত কয়লাও রয়েছে। এরমধ্যে ২ লাখ টন কয়লা রপ্তানী করার সুযোগ পেয়েছিলেন রপ্তানী কারকরা। কিন্তু করোনার কারণে আমদানী-রপ্তানী বন্ধ থাকায় এই কয়লা আসে নি। গত বৃহস্পতিবার থেকে আমদানী শুরু হয়েছে।
বড়ছড়ার রাজস্ব কর্মকর্তা সুদীপ্ত শেখর দাস জানালেন, সোমবার ১০১ গাড়ী কয়লা বড়ছড়া ও চারাগাঁও দিয়ে আমদানী হয়েছে। দিন দিন হয়তো আমদানী বাড়বে।