মেলায় নজর কাড়ছে তিন প্রতিষ্ঠানের মডেল

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ এবং গণপূর্তের স্টলের সামনে স্থাপিত স্থাপত্য নকশা।
এই তিন প্রতিষ্ঠান স্টলের সামনে তাদের নিজেদের নির্মাণ করা ও নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনার নকশা তৈরি করে উন্নয়নের চিত্র তোলে ধরেছেন।
জেলা এলজিইডির স্টলের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে, তাহিরপুর উপজেলার ভৌগলিক নকশা। এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ২০১০ সালে হাওরের পানিতে নৌকার উপর ভাসমান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ। গড়ে তোলা হয়েছে যাদুকাটা নদীতে নির্মাণধীন সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সেতু, নদীর পূর্ব তীরে শাহ আরেফিন (রহঃ) মাজার ও শ্রী শ্রী অদ্বৈত্ব মহাপ্রভুর মন্দির। পশ্চিমতীরে বারিকা টিলা, ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, নদীর দুই তীরে ফসলী জমি ও আগাম বন্যার হাত থেকে বাঁচার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কাঁচা বাড়ি। নদীর দুই তীরে সীমান্ত সড়ক আরও অনেক কিছু।
সড়ক ও জনপথের স্টলের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে, সুরমা নদীর উপর নির্মাণ করা আব্দুজ জহুর সেতু। নদীর দুই তীরে আবাসিক এলাকার ভবন। সুনামগঞ্জ শহরের রাস্তা ও সওজ ভবনের চিত্র। নদীর পশ্চিম তীরে দেখানো হয়েছে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনাবাজার) সড়ক ও কাচিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক। স্টলের ভেতরে নির্মাণাধীন রানীগঞ্জ সেতুসহ নানা অবকাঠামোর ছবি গ্যালারি করা হয়েছে।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন, সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, ৮ তলা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল, ৪ তলা বিশিষ্ট দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা ভবন, ১০ তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন ও ৪ তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবনের স্থাপত্য নকশা। প্রতিটি নকশার পাশে ভবনের নাম লিখে রাখা হয়েছে।
এই তিন প্রতিষ্ঠানের স্থাপত্য নকশা ঘুরে ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন শ্রেণি বয়সের লোকজন ও শিক্ষার্থীরা। অনেকেই এসব স্থাপত্য নকশার সাথে সেলফি তুলছেন।
সরকারের গুত্বপূর্ণ এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করা স্থাপত্য নকশা বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিদর্শন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান, সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন্নার বেগম শাহানা রব্বানী, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, পৌর মেয়র নাদের বখতসহ উপস্থিত সকলেই।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান তিন প্রতিষ্ঠানের এসব স্থাপত্য নকশা দেখে প্রশংসা করেন বলেন,‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড, নির্মাণাধীন বা প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থাপত্য নকশা দেখানো সম্ভব হলে খুব ভাল হত। সাধারণ মানুষ নকশা দেখে বুঝতে পারত সুনামগঞ্জে কি কি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে, কি নির্মাণ করা হচ্ছে বা নির্মাণ করা হবে।’