মেয়র জগলুলের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে

সর্বস্তরের বিপুল মানুষের শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার আরপিননগর গুরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র আয়ুব বখত্ জগলুল। একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন ঘটে তাঁর মৃত্যুর পর। কারণ তিনি তখন যাবতীয় জাগতিক চাওয়া পাওয়া বা আশা প্রত্যাশার বাইরে চলে যান। মানুষটিকে নতুন করে কিছু দেবার অথবা তাঁর কাছ থেকে কিছু পাওয়ার তখন আসলে আর কিছু থাকে না। এরকম চাওয়া পাওয়ার উর্দ্ধে উঠে যাওয়ার পর তাঁর সম্পর্কে অন্যের যে মনোভাব প্রকাশিত হয় সেটিই আসলে ওই ব্যক্তির প্রকৃত মূল্যায়ন। জগলুলের মৃত্যুর পর সারা জেলা জুরে শোকের যে আবহ তৈরি হয়েছে এবং যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত, তাঁর মৃতদেহ দেখতে মানুষের ভিড়, জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি; এসব কিছুই প্রমাণ করে মেয়র জগলুল মানুষ হিসাবে সকলের হৃদয়ের গভীরে উজ্জ্বল ছিলেন। একজন মানুষকে ভাল না বাসলে নিছক আনুষ্ঠানিকতা বা লৌকিকতার কারণে এত স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। আর ব্যক্তি জগলুলের জীবনের স্বার্থকতা এই জায়গায়ই।
পৌর মেয়র হিসাবে মেয়র জগলুল শহরের উন্নয়নে বেশ কিছু কাজে হাত দিয়েছিলেন। এর অনেকগুলো সমাপ্ত হয়েছে। বেশ কিছু কাজ চলমান এবং আরও কিছু কাজ এখনও শুরু করা যায় নি। শহরের কাজিরপয়েন্ট ও কালিবাড়ি এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণসহ সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ কাজ তিনি শুরু করেছিলেন। এর মধ্যে কাজির পয়েন্টের কাজ বেশ এগিয়ে গিয়েছিল। কালিবাড়ি এলাকার কাজটি মাত্র শুরু হয়েছিল। এ ছাড়া আরও কিছু সড়ক নিয়ে তাঁর এরকম পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা ছিল পৌর শিশু পার্ক, সুইমিং পুল এসব বিষয় নিয়েও।  সাধারণ মানুষের মনে এখন সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, তাঁর মৃত্যুতে  এসব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায় কিনা। আমরা জানি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেন। যেমন জগলুল উন্নয়ন কাজের নান্দনিকতা, স্থায়িত্ব, মান ইত্যাদির প্রশ্নে অবিচল থেকে পৌরসভাকে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর দ্বারা সম্পাদিত উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে এ যাবৎ কোন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে দেখা যায়নি। তাঁর মৃত্যুতে এসব উন্নয়ন কাজ থমকে যাবে এটি বিশ্বাস করা কঠিন। তাঁর অনুপস্থিতিতে পৌরসভা যাঁদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে তাঁদের উচিৎ জগলুলের সূচিত উন্নয়ন কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। জগলুল যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পুরো পৌর পরিষদকে নিয়েই তিনি দেখেছিলেন। এখন ব্যক্তি জগলুলের অনুপস্থিতিতে পৌর পরিষদের অন্যদের দায় দায়িত্ব আরও অনেক বেশি বেড়ে গেল বলেই আমাদের মনে হয়। এরকম অবস্থায় পৌরবাসীর প্রত্যাশা হলো জগলুলের দ্বারা শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়নে যে কাজ শুরু হয়েছিল সেগুলো যাতে দ্রুত শেষ করা হয়। মেয়র জগলুলের প্রতি পৌর পরিষদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর এ হলো এক সর্বোত্তম উপায়।
ব্যক্তি মাত্রই মরণশীল। কিন্তু দেহগত মৃত্যুকে তুচ্ছ করে দেয় কিছু মহান মানুষ। তাঁরা জীবনে এমন সুকীর্তির অধিকারী হয় যে কারণে তাঁরা মৃত্যুর পরও অনেক অনেক দিন চিরঞ্জীব হয়ে থাকেন সকলের মনে। আসুন চিরঞ্জীব জগলুলের অসমাপ্ত কাজগুলোকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাই।