মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে

স্টাফ রিপোর্টার
উপস্থিত নেতা কর্মীদের কেউ কেউ কিছু অনুযোগ, অভিযোগ, অভিমানী বক্তব্য দিলেও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শুক্রবার সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেলা আড়াইটায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আপ্তাব উদ্দিন, সিদ্দিক আহমদ, রেজাউল করিম শামীম, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নান্টু রায়, অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, কোষাধ্যক্ষ ইশতিয়াক শামীম, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল প্রমুখ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুজিববর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম তাঁর বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন’এর সঙ্গে দলের ত্যাগীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন। দলের নেতা-কর্মীদের তিনি অবজ্ঞা করেন বলেও উল্লেখ করেন শামীম।
মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তাঁর বক্তব্যের সময় বলেন, রেজাউল করিম শামীম জাতীয় নির্বাচনে অসহযোগিতা করেছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা’র বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। পরে রেজাউল করিম শামীম বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ধর্মপাশায় নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন সংসদ সদস্যের ভাই বিদ্রোহী প্রার্থী’র নিকট।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য আমার পরিবারের ত্যাগ জেলাবাসী জানেন। ১৫ আগস্টের পর আমার বাবা জেল খেটেছেন। আমি পেশাদার রাজনীতিক। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা কমিটির কাছে আমার অনুরোধ ছিল, প্রার্থী তালিকায় আমার নামটি দেবার। তাঁরা সেই তালিকায়ও আমাকে রাখলেন না।
সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আপ্তাব উদ্দিন দলের সঙ্গে এমপিদের সমন্বয় আরো বেশি বাড়ানোর দাবি করেন। দলকে সংগঠিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।
সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরো চাঙা ও শক্তিশালী করতে হবে।
সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি দলকে ঐক্যবদ্ধ, সুসংহত এবং আরো বেশি সংগঠিত করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, দল শক্তিশালী করতে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুজ ব্যারিস্টার ইমনকে আমি সহযোগিতা করতে চাই।
সভায় জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৩ সদস্যের ৫৭ জনই কমিটি’র প্রতি অনাস্থা দিয়েছেন বলে জানানো হয়। মধ্যনগরে ১৫ বছর হয় সম্মেলন হয়নি, আহ্বায়ক মারা গেছেন উল্লেখ করে ওই কমিটি দ্রুত গঠন করার প্রস্তাব ওঠে। ছাতক, দোয়ারা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি করারও প্রস্তাব ওঠে।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ, কোন গ্রুপিং নেই। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা কমিটি গঠন করা হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে হবে কমিটি। চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যগণের কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে, সরকারে আছেন তাঁরা। দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।