মে দিবসে নিউইয়র্ক কেমন আছে?

ইশতিয়াক রূপু
মে মাসের ১ম দিন পেশাজীবী আর মেহনতী মানুষকে স্মরন করবার দিন। আর এই দিনের শুরুতে নিউইয়র্কের প্রধান মিডিয়াতে এলো বেশ কয়টি স্বস্তির খবর। নগর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাসপাতালে হ্রাস পেতে শুরু করেছে করোনায় মুত্যুর সংখ্যা। পাশাপাশি মোটা দাগে কমেছে আক্রান্তের সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তির মোট সংখ্যা। মার্চের মধ্যভাগে তড়িগড়ি করে জার্ভিস সেন্টারে প্রস্তুত করা জরুরী ফিল্ড হাসপাতাল থেকে আজ শেষ রুগী নিজ বাসায় ফিরে গেলো। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে হাসপাতাল বন্ধ ঘোষনা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেরন করা ইউ এস নেভীর ভাসমান হাসপাতাল ইউ এস কমফোর্ট নিউইয়র্কবাসীদের মহা দুর্যোগে পর্যাপ্ত সেবা প্রদান করে ফিরে গেলো নিজ স্থায়ী ঠিকানায়। টুকরো টুকরো সকল স্বস্তির খবরের পাশাপাশি আসছে কিছু মন ভারী করার খবর। নগরীর বেশ কয়টি প্রবীন আবাস হোম থেকে আসছে উদ্বেগজনক সংখ্যার মুত্যুর সংবাদ। কর্তৃপক্ষ করোনার তান্ডবে মারা যাওয়া প্রবীনদের মৃতদেহ নিজস্ব মর্গে স্থান সংকুলান করতে না পেরে ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন ফ্রিজিং ট্রাক। ফিউনারেল হোমের বাইরে ভাড়া ট্রাকে অসম্মান জনক করে স্তুপ করে রাখা হয়েছে নানা বয়সের মৃতদেহ। যাদের অনেকের শরীরে ইতিমধ্যে পঁচন ধরেছে।
সৎকারের জন্য এখনো শত শত স্বজনরা অপেক্ষামান। নিউইয়র্কের ফিউনারেল হোমগুলির কর্মচারী ও কর্মকর্তারা বলছে আমরা আর পারছিনা। আমরা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। মৃত্যপুরীর কষ্টের ভার সয়ে নিয়ে চলা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিটি ফিউনারেল হোমে এখনো অসংখ্য মৃতদেহ সৎকারের জন্য অপেক্ষামান। গভর্নরের পরিকল্পনা মাফিক নগরীতে শুধু মাত্র পথচারীদের জন ম্যানহাটনের একটি অংশ শুধু হাঁটার জন্য খোলে দেয়া হয়েছে। পাশের রাজ্য নিউজার্সীর পাঁচটি পার্ক খুলে দেয়া হয়েছে সোসাল ডিসটেন্স পুরোপুরি মানার শর্তে।
শত জাতি আর ভাষার শহর নিউইয়র্কের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া রাজপথ আর হাইওয়েতে ধীরে ধীরে শুরু হয়ে সীমিত গাড়ি চলাচল। বাংলাদেশী অভিবাসীদের জন্য এখনো দু চারটি কষ্টের সংবাদ আসছে।
নগরীতে বসবাস কারী বাংলাদেশীদের বড় অংশের বসবাসের স্থান কুইন্স, জামাইকা সহ বর্ঙ্কস এবং ওজন পার্কের অনেক বড় মাপের রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারী সপগুলি খুলেছে নানা শর্ত পালন করে।
শুধু মাত্র খাদ্য বাড়ি নিয়ে যাওয়ার শর্ত শতভাগ মেনে নিয়ে কিছু প্রসিদ্ধ খাবার বাড়ি আয়োজন করছেন ঐতিহ্যবাহী ইফতার বিক্রীর সীমিত আয়োজন। গ্রোসারী সপে বাজার করতে লাগছে দীর্ঘ সময়। সোসাল ডিসটেন্স নিয়ম অত্যন্ত কড়কড়ি ভাবে পালন করতে মালিক কর্মচারী সহ ক্রেতাদের উৎসাহে কোন ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না আপাততঃ তবে কোন কোন স্থানে নাকি ক্রেতাদের অসহযোগিতার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকায় রমজানের আমেজ এবার বলতে গেলে চোখেই পড়ছে না। করোনার কারনে নগরীতে মৃত্যসংখ্যার সিংহভাগ বয়স্ক থাকায় প্রতিটি পরিবার বাসার প্রবীন পিতা মাতা শশুড শাশুড়িদের যথোপযুক্ত খেয়াল রাখছেন। বেশির ভাগ মুরুব্বীরা তারাবির নামাজ বাসায় আদায় করেছেন চেনা জানা অনেক কে বহুদিন না দেখার কষ্ট নিয়ে। নিউইয়র্কের দুই শতের ও অধিক নানা আঞ্চলিক সমিতি আর বৃহৎ সংগঠনের আয়োজনে ইফতার সমাবেশ থেকে অভিবাসীদের বড় অংশ বঞ্চিত।
এসব কস্টের কারন নিজে ও পরিবার সঙ্গে সমাজ কে ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের ছোবল থেকে রক্ষার প্রয়াসে। রাজ্যের সকল বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে চলতি বছরের বাকি শিক্ষাসময় সূচীর জন্য। তবে বিদ্যালয় সমূহে অব্যাহত আছে অন লাইনে শিক্ষাদান কর্মসূচী। তেমনি সমান আয়োজনে কলেজ সমূহে চলছে চলতি বছরের শিক্ষাদান কর্মসূচী। আজকের পত্রিকার খবরে এসেছে ক্রমে ক্রমে ৩৩ টি রাজ্য খুলে দেয়া হচ্ছে। সে দিক থেকে নিউইয়র্ক সেই ভাগ্যবান রাজ্য সমূহের তালিকায় নেই। করোনার মারা যাওয়া নিউইয়র্ক বাসীর সংখ্যা আজ ৩০০ শতের কম। যা নিঃসন্দেহে স্বস্তি আর আশার সংবাদ। যদি ও আসছে শনি ও রোববার দুদিনে যাতে নিউইয়র্কবাসী সামাজিক দুরত্ব কিম্বা শারিরিক দুরত্ব যথাযথ পালন করে তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশের নজরদারী বাড়িয়েছেন প্রায় দ্বিগুন। এই মুহুর্তে এটা ছাড়া আমাদের
আর কোন বিকল্প নেই। সর্বশেষ কথা টি বলে আমার স্বগোক্তির সমাপ্তি টানতে চাই। করোনার এলোপাতাড়ি ও নির্দয় আক্রমন থেকে নিজেকে আজ পর্যন্ত রক্ষা করতে পেরেছি শুধু মাত্র একটি শক্ত নিয়ম মেনে। তা হলো ‘ ঘরে থাকো নিরাপদ থাকো’।