ম্যাচের নায়ক শুভাগত হোম

সু.খবর ডেস্ক
চারদিক থেকে শুধু সমালোচনার তীরই ধেয়ে আসে তার দিকে। শুভাগত হোমও ব্যাটে-বলে এমন কিছু করে এর মোক্ষম জবাবও যে দিয়েছেন তাও নয়। তবে শুক্রবার বিপিএলে ম্যাচ সেরা হলেন। ১৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে জেতালেন ৪০ রানের পরিস্থিতির দাবি মেটানো এক ইনিংস খেলে। ৩৪ বলে ৫টি চার ও এক ছক্কার ইনিংসটা হয়তো আহামরি নয়। কিন্তু ১২০ রান তাড়া করার জন্য আহামরি কিছু করার প্রয়োজনও আসলে পড়ে না।
খুলনা টাইটানসকেও খুব একটা বেগ পেতে হয়নি সহজ লক্ষ্যটা পেরোতে। বরিশাল বুলসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আবারও পয়েন্ট তালিকায় ওপরে উঠে এসেছে খুলনা।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১৬ রানে ফিরে যান খুলনার দুই ওপেনার। তাইজুল ইসলামের প্রায় গড়িয়ে আসা বলে বোল্ড হয়েছেন হাসানুজ্জামান আর তাইবুর রহমান ফিরেছেন রানআউটে কাটা পড়ে। বিপিএলের শুরু থেকেই ফর্মহীনতায় ভুগছিলেন শুভাগত। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে তো একাদশের বাইরেই চলে গেলেন। তবে নায়ক হয়েই দলে ফিরলেন শুভাগত। ম্যাচ সেরা পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে। মাহমুদউল্লাহ ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফিরেছেন। খুলনার সহজ জয়ে বড় অবদান শুভাগত-মাহমুদউল্লাহর চতুর্থ উইকেটে তোলা ৪৭ বলে ৫৭ রান।
আগে ব্যাটিং করা বরিশাল প্রথম ওভারেই তোলে ৮ রান। এর পর তারা যত এগিয়েছে, ততই শ্লথ হয়েছে তাদের রানের চাকা। যদিও ২৪ রানে দুই ওপেনার হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে স্বচ্ছন্দেই এগোচ্ছিলেন শাহরিয়ার নাফীস ও মুশফিকুর রহিম। এই জুটিতে দুজন যোগ করেন ৩৭ বলে ৪২ রান। মোশাররফ হোসেনের বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লু হওয়ার আগে শাহরিয়ার করেন ২৭ বলে ২৩ রান।
ছন্দে থাকা মুশফিক আজও ছিলেন উজ্জ্বল। কিন্তু থিসারা পেরেরার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হওয়ার আগে বরিশাল অধিনায়কের ইনিংসটি থেমে যায় ৩১ রানে। মুশফিক আবারও এ আসরের সর্বোচ্চ রানের মালিকের সিংহাসনে বসেছেন। যদিও তাঁর বিদায়ের পর উইকেটে দুজন সেট ব্যাটসম্যান নিয়েও শেষ ৪ ওভারে বরিশাল তুলতে পেরেছে ২৫ রান।
ছুটির দিনে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরা থাকলেও এমন ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচে মন ভরার কথা নয় দর্শকদের। হাতে উইকেট পড়ে থাকার পরও রান-বন্যা দেখা না গেলে ম্যাচ কী আর উপভোগ্য হয়! ৮ বল বাকি থাকতেই জিতেছে খুলনা।