যাদুকাটা নদীতে ফের চাঁদাবাজী, বালু পাথর শ্রমিকরা অসহায়

এম.এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না এ চাঁদাবাজ চক্রটিকে। নদীতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্মে অসহায় হয়ে পড়েছেন এলাকার কয়েক হাজার বালু পাথর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। চাঁদাবাজ চক্রটি যাদুকাটা নদীর মাঝ নদীতেও তাদের জায়গার মালিকানা দাবি করে বালু ও পাথর উত্তোলনরত শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতি শেইভ মেশিন থেকে ২ হাজার এবং প্রতি ফুট বালু থেকে ২ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড়ের বিন্নাকুলী ও ছড়ারপাড় এবং পশ্চিম পাড়ের গাঘটিয়া গ্রাম সংলগ্ন বড়টেক ও টেকেরগাঁও এলাকায় পাড় কেটে বালু ও পাথর উত্তোলন প্রায় ২ মাস বন্ধ ছিল। সপ্তাহ খানেক পূর্বে এলাকার বর্তমান, সাবেক চেয়ারম্যান সহ বালু পাথর শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে নদীর পাড় থেকে নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু ও পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেয় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নির্ধারিত সীমানার বাইরেও মাঝ নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের
কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে চক্রটি। চক্রটিকে চাঁদা না দিলে শ্রমিকদের মারপিট করা সহ বালুপাথর উত্তোলন করতে দিচ্ছে না তারা। এ চক্রটি মাঝ নদীতেও তাদের জায়গার মালিকানা দাবি করে প্রতিনিয়ত চাঁদা উঠাচ্ছে যে যার মতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জানান, বাদাঘাট ইউনিয়নের ডালারপাড় গ্রামের জামাল মিয়ার (৫০) নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড়ের বিন্নাকুলী ও ছড়ারপাড় এলাকায় এবং পশ্চিম পাড়ের ঘাগটিয়া গ্রাম সংলগ্ন বড়টেক ও টেকেরগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজী করছে। এতে ঘাগটিয়া গ্রামের মজিবুর রহমান (৫০), রানু মিয়া, নাছির উদ্দিন (৬৫) ও মোশাহিদের নেতৃত্বে পাথর উত্তোলনের প্রতি শেইভ মেশিন থেকে ২ হাজার এবং প্রতি ফুট বালু থেকে ২ টাকা চাঁদাবাজী করছে।
অভিযুক্ত মজিবুর রহমান বলেন, যাদুকাটা নদীর পাড়ে আমার কোন জমি নেই। ৫০ জনের একটি চাঁদাবাজ চক্র নদীতে চাঁদাবাজি করে দোষ চাপায় আমার উপর। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।
অভিযুক্ত রানু মিয়া বলেন, জেলা পরিষদ থেকে লিজ আনা জায়গা থেকে আমি টোল আদায় করছি এবং লিজকৃত জায়গাতে আমি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছি।
এ বিষয়ে মোশাহিদ মিয়া বলেন, নদীতে চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার শত্রু পক্ষ তাকে ফাঁসাতে আমার নাম এসবের সঙ্গে জড়াচ্ছেন।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘাগটিয়া গ্রামের একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেশ কিছুদিন যাবৎ জোরপূর্বক বালু পাথর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জায়গার মালিকানা দাবি করে চাঁদা আদায় করছে বলে আমাকে এলাকার অনেকেই বলেছেন।
তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, যারা নদীতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী বলেন, নদীতে প্রশাসনের নির্ধারিত সীমানার বাইরে কেউ জায়গার মালিকানা দাবি করে শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিলে সেটি অন্যায় হবে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।