যাদুকাটা নদী দিয়ে বালু-পাথর পরিবহন, বিআইডব্লিউটিএ’র নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
দেশের বৃহত্তম বালি-পাথর মহাল তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালি পাথর পরিবহনকারী নৌকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বালি পাথর পরিবহনকারী আল্লারদান নৌকার মালিক জামালগঞ্জ উপজেলার সেরমস্তপুর গ্রামের হাসান মিয়া বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার পথে ফাজিলপুর বালু পাথর মহালের ইজারাারকে টুল দিয়ে আসছি। সম্প্রতি রঙ্গারচর হতে আবুয়া নদীর মুখ পর্যন্ত স্থানে শওকত মিয়া,শিরীন মিয়া ও খলিল নামে ব্যক্তিরা নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে জোড় পূর্বক চাঁদাবাজি করে চলেছে। নৌকার মাঝিরা তাদের প্রশ্ন করলে তারা জানায় বিআইডব্লিউটিএ’র নিকট থেকে তারা ইজারা এনেছে। তাদের চাহিদামতো চাঁদার টাকা না দিলে নৌকার মাঝিদের সাথে খারাপ আচরণ করে এমনকি তাদের মারধর পর্যন্ত করে।
যাদুকাটা নদী তীরবর্তী লাউড়েরগড় বালি পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুতালিব মিয়া বলেন, রঙ্গারচর হতে আবুয়া নদীর মুখ পর্যন্ত বালু পাথর ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি করার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা যাদুকাটা নদীর প্রতি বিমুখ হয়ে পড়েছেন। স্থানে স্থানে চাঁদা দেয়ার ফলে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি এ নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মা জুলেখা নৌ পরিবহনের মালিক সাগর মিয়া বলেন, চাঁদাবাজরা প্রতি ফুট বালু থেকে ৫০ পয়সা করে চাঁদা আদায় করে। এতে করে দেখা যায়, ১০ হাজার ফুট বালু পাথর ভর্তি নৌকা থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার ফুট বালু-পাথর ভর্তি নৌকা থেকে ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা অবৈধ চাঁদা দিতে হচ্ছে। এভাবে আবুয়া ও রক্তি নদী দিয়ে দুই থেকে আড়াইশ নৌকা যাতায়াত করে থাকে। এতে করে চাঁদাবাজরা দৈনিক ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে।
রঙ্গারচর হইতে আবুয়া নদীর মূখ পর্যন্ত স্থানে চাঁদা আদায়ের নেতৃত্বদানকারী খলিল মিয়া বলেন, আমরা বিআইডব্লিউটিএ’র (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) থেকে ইজারা এনেছি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নামে কেউ ইজারার টাকা আদায় করলে ওই স্থানে বিআইডব্লিউটিএ’র জেটি স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া অন্য পন্থায় কেউ চাঁদা আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।