যানজট নিরসন ও সড়ক সংস্কারের দাবি

পুলক রাজ
পৌর শহরের যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে, এর মধ্যে ওয়ার্ডের জেলা সদর হাসপাতাল ও সরকারি কলেজের সড়কটি অন্যতম। যানজট ও ভাঙাচোড়া সড়কের কারণে বাইরে থেকে আসা লোকজন যেমন সমস্যায় পড়েন, তেমনই এলাকার ছাত্রছাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। সড়কে পিচ উঠে স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। ধীরগতিতে যান চলায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এসব গর্তে পড়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। এদিকে ওয়ার্ডের জনবহুল পাড়াগুলিতে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা নেই। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলেন বাসিন্দারা। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ভোগান্তি হয় যাতায়াতে। কলেজ রোডের একাংশে নেই স্ট্রিট লাইট। সন্ধ্যে নামলেই চারদিক আঁধার। এছাড়াও রয়েছে বখাটে ও ছিনতাইকারীদের উৎপাত। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডে প্রতিদিন অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এই সড়কে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ভাঙাচুড়ার কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের। এতে সদর হাসপাতালের সামনে সব সময় জ্যাম লেগে থাকে।
এদিকে উকিলপাড়ার সুরমা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার রোডের পাশে ড্রেন ভাঙা, ড্রেনের ঢাকনা নেই। ষোলঘর পয়েন্ট হয়ে কলোনির সামনের সড়কের বেহাল দশা। ওয়াপদা, বিলপাড়, কলেজ রোডের সড়ক সরু। ড্রেনের ঢাকনা নেই। ময়লার দুর্গন্ধ থাকে সবসময়।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সড়কে বখাটেরা নানা ধরনের নেশা ও উৎপাত করে ছাত্রীদের। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের পেছনের সড়ক ও বিলপাড় এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইকারীদের উপদ্রব দেখা যায়।
এলাকার বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রায় সময় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ রোডের পেছনের সড়কে টাকা-পয়সা ও মোবাইল সেট ছিনতাই হয়। এলাকার ও বাহিরের বখাটেরা মেয়েদের ইভটিজিং করছে। বখাটেদের বেপরোয়া মোটর বাইক চালানোর কারণে পথচারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের চলাচলে বিঘœ ঘটে। রাতের বেলা কলেজ রোডে একাংশে সড়ক বাতি থাকে না।
আরেক বাসিন্দা আতিক হোসেন বলেন, ব্যস্ততম সদর হাসপাতাল সড়ক ভাঙাচুড়া থাকায় রোগী ও জনগণ চরম দুর্ভোগে আছেন। জ্যাম লেগে থাকে সব সময়। আমরা চাই সদর হাসপাতাল সড়কের সংস্কার হোক।
বিলপাড়ের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার চন্দ বলেন, আমাদের এলাকায় ডাস্টবিন না থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো আবর্জনা ফেলে রাখছে সড়কে।
পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াছিনুর রশিদ বলেন, আমার ওয়ার্ডের প্রায় ৯৫ ভাগ উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে। ষোলঘর বাজার রোড, বিলপাড় মসজিদ রোড, বিলপাড় রোড হয়ে কলেজের পিছনের রোড, এসপি বাংলার ভিতরে প্রায় এক হাজার ফুট লম্বা দুইটা সড়ক করা হয়েছে। কাজীর পয়েন্টে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, টেন্ডার হয়েছে, বিলপাড় এবং মৃত মানিক চন্দ রোডে কাজ শুরু হবে। বিহারী পয়েন্ট থেকে হাসপাতাল রোড, হাছননগর, ময়নার পয়েন্ট ও ভুবির পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, পৌর এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য মেয়র মহোদয় দশ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। বিহারী পয়েন্ট, ষোলঘর, কাজির পয়েন্টে কোন জায়গা না থাকায় ডাস্টবিন রাখতে পারছি না। সড়ক সরু হওয়ায় পৌরসভার গাড়ি ঢুকে না। বিলপাড়ের জনগণকে বলেছি কলোনির কর্নারে যে ডাস্টবিন আছে, সেখানে আবর্জনা ফেলার জন্য। আমার ওয়ার্ডে ইভটিজিংসহ খারাপ কাজ যেন না হয়, সেজন্য সব সময় নজর রাখি। তবে মাঝে মধ্যে বিলপাড় ব্রিজের কাছে বখাটেরা উৎপাত করে।