যুক্তরাজ্যে উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

‘শোষণের বেড়াজালে মানুষের প্রাণ, মুক্তির মিছিলে লড়াইয়ের গান’ স্লোগানকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ২৯ অক্টোবর উদীচীর ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জোবের আখতার সোহেল ও কোষাধক্ষ্য হেলেন ইসলাম। বিশেষ আলোচক ছিলেন ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য সিপিবির সভাপতি কমরেড অ্যাডভোকেট আবেদ আলী আবিদ। আরও ছিলেন কেবিনেট মেম্বার ফরকালচার এন্ড রিক্রিয়েশন, কাউন্সিলর ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টসের সভাপতি, উদীচী জাতীয় পরিষদ সদস্য গোপাল দাশ ও উদীচী সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর মনসুর আলী, কাউন্সিলর ফয়জুর রহমান, সাবেক স্পীকার কাউন্সিলর আহব্বাব হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ আলী, ডক্টর রোয়াবউদ্দীন, সাবেক কাউন্সিলর আয়শা চৌধুরী, আব্দুল বাছিত প্রমুখ।
কমরেড আবেদ আলী বলেন, সত্যেন সেন একদিকে যেমন কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, সেইসঙ্গে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করার জন্যই উদীচী প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত উদীচী মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে গান গেয়ে গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছে। পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। যে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু আজ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। সত্যেন সেনের বাংলাদেশে, প্রগতিকামী বাংলাদেশের জন্য যা অশনিসংকেত। আমাদের সত্যেন সেনের আদর্শে গড়ে তোলা উদীচীর পতাকা আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস এর ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন পরিবেশনা সহ আবৃত্তি করেন উদীচীর শিল্পী হামিদা ইদ্রিস ও মোর্শেদ আহমদ। ২১শের উপর প্রদর্শিত হয় তথ্যচিত্র। পরিশেষে উদীচী শিল্পীদের পরিবেশনায় গণসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও প্রথম দিন ২২অক্টোবর উদীচীর দলীয় শিল্পীদের দ্বারা সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত ও অমর ২১শের কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সকল ভাষা শহীদ স্মরণে ও সদ্য প্রয়াত আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশেষ অংশগ্রহণে ছিল সেন্ট্রাল ফাউন্ডেশন গার্লসস্কুল। বৃটেনে জন্ম নেওয়া উপস্থিত শিশুদেরকে বাংলা ভাষা ও তার তাৎপর্য সম্পর্কে অবহিত করা ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। তাদের নিজস্ব পরিবেশনায় ছিল একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি, স্বল্প দৈর্ঘ্য টেলিফিল্ম। তাদের সাথে সহযোগী হিসাবে পরিবেশনায় ছিলেন তাদের শিক্ষক শাবিতা শামশেদ।
মূল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু মূসা হাসান। এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছরপূর্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সিলেট সংসদের সভাপতি শ্রী সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, লন্ডন সিটি কাউন্সিল এর কাউন্সিল ম্যান মনসুর আলী, সাবেক টাওয়ার হ্যামলেটের স্পীকার, কাউন্সিলর আহব্বাব হোসেন,লেখক সারওয়ার ই—আলম সহ বিভিন্নসামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টসের সভাপতি উদীচী জাতীয় পরিষদ সদস্য গোপাল দাশ। নাচে গানে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত করে রাখে সত্যেন স্কুলের ছাত্র মিশেল, তুরা, অনুভা, অন্বেষা, বৃন্দা সহআরো অনেক। সহযোগিতায় ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীমা দে। নৃত্য পরিবেশনা ও নির্দেশনায় ছিল পলা দাশ। গণসংগীত পরিবেশন করেন গোপাল দাস, নরুল ইসলাম, অসীমা দে, ইভা আহমেদ, মনজেরীন রশীদ, আছমা শিল্পী, মৌলি, শামসুদ্দীন আহমদ, মুর্শেদ উদ্দীন আহমদ, আব্দুল বাসেত, সেলিম মালেক, সৈয়দ জাকির হোসেন, অনুপম রহমান, হেলাল আহমদ ও জোবায়ের আখতার সোহেল। আবৃত্তিতে অংশ নেন রওশন জাহান সিমি, মোর্শেদ আহমদ, মনজেরীন রশীদ, সারওয়ারই আলম সহ আরে অনেক। এছাড়া যুক্তরাজ্য উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত দাস প্রশান্ত’র তত্ত্বাবধানে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরতে একটি দেয়ালিকা প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আখতার সোহেল ও রওশন জাহান সিমি। লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যালমেট এর উদ্যোগে পুরো অনুষ্ঠানেরতত্ত্বাবধানে ছিলেন যুক্তরাজ্য উদীচীর সভাপতি হারুন অর রশীদ।