যুবককে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়ে নারায়ণ তালুকদার নামের এক যুবককে ঘরের খুঁটিতে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মধ্যনগর বাজারের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মাহবুব তালুকদার ও তার ছোট ভাই রফিকুল তালুকদারের বিরুদ্ধে নারায়ণ তালুকদার ওইদিন বিকেলে মধ্যনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে।
জানা যায়, উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা অরুণ তালুকদারের ছেলে নারায়ণ তালুকদার এক সময় মাহবুব তালুকদারের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। মাহবুব তালুকদার মধ্যনগর ইউনিয়নের খালিসাকান্দা গ্রামের বারেক তালুকদারের ছেলে। নায়ারণ মাহবুবের দোকানে কাজ করার সময় মাঝে মধ্যে তার বেতন অগ্রিম নিয়ে নিতেন। পরে বেতন থেকে সেই টাকা পরিশোধ করে দিতেন মাহবুবকে। প্রায় ছয় মাস আগে নারায়ণ মাহবুবের দোকান ছেড়ে স্থানীয় অন্য একটি ওয়ার্কশপে কাজে যোগ দেয়। কিন্তু মাহবুবের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি নারায়ণ। মাহবুব বিভিন্ন সময় চেষ্টা করে সেই টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নায়ারণ দুপুরের খাবার খেয়ে মাহবুবের দোকানের সামনে দিয়ে নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় মাহবুব ও তার ছোট ভাই রফিকুল নারায়ণকে জোরপূর্বক তাদের দোকানে নিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা ও মারধর করেন এবং রশি দিয়ে ঘরের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশ দুপুর আড়ইটার দিকে নারায়ণকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নারায়ণ তালুকদার জানান, মাহবুব তার কাছে ২৮ হাজার টাকা পাবে। সালিশের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে আটকে মারধর ও বেঁধে রাখা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তার ছোট ভাই রফিকুল তালুকদার সেই কল রিসিভ করেন। তিনি জানান, নারায়ণের কাছে কয়েক বছর আগে থেকে টাকা পাওনা ছিল। নারায়ণ সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিল না। তাই তাকে তাদের দোকান ঘরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। মারধর বা বেঁধে রাখার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
নারায়ণ এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে এমনটি নিশ্চিত করে মধ্যনগর থানার ওসি মো. সেলিম নেওয়াজ জানান, পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে মাহবুব কিছু সময় নারায়ণকে আটকে রেখেছিল বলে শুনেছেন তিনি। পুলিশ পাঠিয়ে নারায়ণকে থানায় নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।