যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

বিন্দু তালুকদার
জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও ও লক্ষীপুর বাজারের কাছে বিপজ্জনকভাবে টানানো হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (১১ হাজার ভোল্টেজ) তার।
মাটি ও পানি থেকে সঠিক উচ্চতায় কামারগাঁও, মুসলিমপাড়া ও লক্ষীপুর বাজারের কাছ দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের এই লাইন নেয়া হয়নি। বর্ষাকালে হাওরের পানি থেকে মাত্র কয়েক হাত উপরে থাকে এই লাইনটি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাওরের পানি আর একটু বৃদ্ধি পেলে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে লাইন নির্মাণ করলে এই সমস্যা হত না। তারা নিজেদের মত করে কাজ করায় হাওরবাসীর জন্য মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষীপুর বাজারের মাত্র কয়েকশ’ গজ দক্ষিণ পাশে লক্ষীপুর দাখিল মাদ্রাসার সামনে সড়কের উপর ও কামারগাঁও গ্রামের পূর্বপাশে দিয়ে নিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের তার পানি থেকে মাত্র সামান্য উপরে রয়েছে। এই তারের নিচ দিয়ে দিনে রাতে শত শত নৌকা চলাচল করছে। তবে ইঞ্জিন চালিত কোন নৌকা যখন এই তারের নিচ দিয়ে চলাচল করে তখন নৌকার লোকজনকে নিচু হয়ে থাকতে হয়। না হলে নৌকার উপরে থাকা লোকজন পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যেতে পারেন। আর এভাবেই হাওরে পানি আসার পর থেকেই এলাকার সকল নৌযানকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, হেমন্তকালে এলাকার পথচারীরা সতর্কভাবে চলাফেরা করলেও বর্ষায় পল্লী বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ তারের নীচে জীবনবাজি রেখে চলতে হচ্ছে। এতে করে যে কোন সময় তারে জড়িয়ে বা তার ছিড়ে হতাহতের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী দিল আহমদ বলেন,‘ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় এলাকাবাসীর উপকারের জন্য কিন্তু আমাদের এই লাইন যেভাবে নিচু করে টানানো হয়েছে তাতে মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যুতের তার অনেক নিচুতে থাকায় যে কোন সময় নৌকা দিয়ে যাওয়া লোকজন জড়িয়ে যেতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।’
কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রাধাকান্ত সরকার (কালাই) বলেন,‘ পল্লী বিদ্যুতের খুঁিটগুলো নিচু স্থানে পোঁতা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের তারগুলো ঝুলে রয়েছে, যার কারণে বর্ষাকালে হাওরের পানি বাড়লে নৌকা লাগার উপক্রম হয়ে যায়। তারগুলো উপরে উঠানো প্রয়োজন না হলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই তারটি ছয় মাস ধরেই এই অবস্থায় রয়েছে। আমরা যারা সার্বক্ষণিক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি সব সময় আতংকের মধ্যে থাকি। আজ পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেউ খোঁজ খবর নেয়নি।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার অখিল কুমার সাহা বলেন,‘ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষীপুরে বিদ্যুৎ লাইন নিচু করে টানানো হয়েছে বলে কেউ জানায়নি। বিদ্যুতের তার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হলে দ্রুত লাইন বন্ধ করা হবে এবং লাইনটি উঁচু করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’