রংপুরে শাহ আরেফিন (রহ:) মোকামের উন্নয়ন নেই

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত রংপুর কান্দিগাঁয়ে শাহ আরেফিন (রহ:) মোকাম। শতাধিক বছরের প্রাচীন এই মোকামের কোনো উন্নয়ন হয়নি। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীদের ভিড় জমে উঠে। যথাযথ উন্নয়ন না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হন দর্শনার্থীরা। মোকামের সকল সমস্যা সমাধানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি দর্শনার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
শুক্রবার দুপুরে এই মোকামে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা জানান, শাহ আরেফিন (রহ:) মোকামে কোনো উন্নয়ন হয়নি। মোকামে আগত দর্শনার্থীদের দেয়া টাকা দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই, পানির ব্যবস্থা নেই, মহিলা বা পুরুষদের এবাদতখানা নেই, পাহাড়ে উঠানামার সিঁড়ি নেই। বাউন্ডারী দেওয়াল নেই, বৃষ্টির দিনে দাঁড়াবার স্থান নেই, অজুর স্থান নেই, মল, মুত্র ত্যাগের স্থান নেই, দৃষ্টিনন্দন কোনো নির্মাণ নেই। মোকামের উন্নয়নের জন্য সরকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই মোকামের উন্নয়ন চান এলাকাবাসী।
ইসলামপুর-বনগাঁও মেইন সড়ক থেকে কান্দিগাঁওয়ের ছড়ারপাড়ে রয়েছে মোকামের একটি প্রবেশ গেইট। মেইন সড়ক থেকে প্রবেশ গেইটের ভেতর হয়ে সোজা পাকা সড়কে যানবাহন কিংবা পায়ে হেঁটে পৌঁছা যায় মোকামের সন্নিকটে পাহাড়ের পাদদেশে। এরপর পাহাড় বেয়ে উঠতে হয় শাহ আরেফিন (রহ:) মোকামে। মোকামে উঠতে রয়েছে দক্ষিণ দিকে একটি প্রবেশ পথ, রয়েছে পশ্চিম দিকে আরেকটি প্রবেশ পথ। মোকামের আঙিনায় দর্শনার্থীদের বসার দু’টি পাকা স্থান রয়েছে। এতে বসতে পারেন মাত্র ১২ জন দর্শনার্থী।
মোকাম ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মমিন মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস মিয়া, মনিরুজ্জামান, সবুর উদ্দিন, আব্দুল জলিল ও মাঈনুদ্দীন জানান, মোকামে প্রতিদিন জেলার বাইরে থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন মান্নত, শিরনী নিয়ে। এই শিরনী খাওয়ার পর নিরাপদ পানি সংকটে পড়েন দর্শনার্থীরা। তাঁদের পান করতে হয় ইন্দারা বা কূয়ার পানি। পাহাড়ের পাদদেশে মাটির নিচে বড় বড় পাথর থাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। মোকামের নানা সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।
মোকাম ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,‘রংপুর কান্দিগাঁওয়ে শাহ আরেফিন (রহ:) মোকাম রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী এই মোকামে আগমন করছেন। তাঁদের বসার সুনির্দিষ্ট স্থান নেই, মল, মুত্র ত্যাগে স্থান নেই, অজুর স্থান নেই, খাবার পানির সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি বা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’