রংপুর কমিউনিটি ক্লিনিক/ আজব ও তাজ্জব বাস্তবতা

ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের রংপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মুহিবুর রহমান আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খাটছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে চাকুরি বিধি-বিধান অনুসারে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মুহিবুরের সাজা হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে স্বাস্থ্য প্রশাসন অজ্ঞাত বলে জানিয়েছেন। অদ্ভুত ও তাজ্জব বিষয় হলো, ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে এখন মুহিবুরের পরিবর্তে তার বোন স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। সরকারি চাকুরিতে এরকম বদলি দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ না থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিকে আরও কিছু স্বাস্থ্যকর্মী পদায়িত থাকার পরও ওই নারী আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। এটি চাকুরিবিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ বিষয়টিকে কেউই তেমন করে গুরুত্ব দেননি। ওই ক্লিনিকে পদায়িত অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনলেন না? আর ওই নারী ক্লিনিকের ঔষধপত্র ও অন্যান্য সুবিধাদি নিজের আয়ত্বেই নিলেন কীভাবে? বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ।
মুহিবুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে সেচস্কিমের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ আনতে ধর্মপাশা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিল স্বাক্ষর জাল করেছেন। স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই জালিয়াতির ঘটনা আদালতে জানিয়েছেন। এ অপরাধে নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ মুহিবুরকে দোষী সাব্যস্থ করে কারাদ- দেন। চাকুরি বিধি অনুসারে কোনো কর্মচারি কারাগারে যাওয়ার পর মুহূর্ত থেকেই চাকুরি হতে বরখাস্ত হওয়ার যোগ্য। কিন্তু না জানার অজুহাতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেননি। এখানে স্বাস্থ্য প্রশাসনের মদদও থাকতে পারে বলে আমরা মনে করি। নির্ধারিত কারাদ- ভোগ করে মুক্ত হওয়ার পর শাস্তি ভোগের বিষয়টি গোপন রেখে তিনি পুনরায় চাকুরিতে যোগদান করতে পারেন। এরকম ক্ষেত্রে মুহিবুর যথেষ্ট প্রশ্রয় পাচ্ছেন বলেই আমাদের ধারণা। নতুবা তার বোন কোনো অবস্থাতেই ক্লিনিকে বসে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারতেন না।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আমাদের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার খুঁটি। মূলত গ্রাম বাংলার বৃহৎ জনগোষ্ঠী সাধারণ অসুখ-বিসুখে এইসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে থাকেন। এখন এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যদি নির্ধারিত যোগ্যতাবিহীন এক নারী সেবা প্রদান করেন তাহলে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অনেক রোগীই এ বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এতদসংক্রান্ত খবর থেকে জানা যায়। ভুল চিকিৎসার কারণে কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তার দায় কে গ্রহণ করবে? সাধারণ রোগীদের সাথে এমন প্রতারণা করে ভাই মুহিবুরের মতো তার বোনও সমান অপরাধ করেছেন বলে আমরা মনে করি।
যাহোক, আগে না জানুন, এখন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নিশ্চয়ই ধর্মপাশার উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন মুহিবুর কা- সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এখন দেখার বিষয় হলো, তারা কী করেন। আমরা আশা করব, জনস্বার্থ ও আইনের বিধি বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন সাজাপ্রাপ্ত মুহিবুর ও প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত তার বোনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একটি অপরাধ বিনা বিচারে পার পেয়ে গেলে আরও বহু অপরাধকে মেনে নিতে হয়। আমরা চাইব, আলোচ্যক্ষেত্রে এমন অনাকাক্সিক্ষত কাজ না হোক।