রাজ পরিবারের বিয়েতে অতিথি সিলেটের নাছিম

সু.খবর ডেস্ক
লন্ডনের রাজ পরিবারের প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মর্কেলের বিয়েতে নিমন্ত্রণ পেলেন ব্রিস্টলে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও চ্যারিটি ওয়ার্কার নাছিম আলী তালুকদার। আগামী ১৯ মে শনিবার মহাধুমধামে অনুষ্ঠিত হবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নাতি প্রিন্স হ্যারির জীবনের নতুন অধ্যায়। বিয়েতে অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সেলিব্রিটি, ব্রিটেনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শীর্ষ ব্যক্তিসহ সারা বিশ্বের খ্যাতিমান আমন্ত্রিতরা।
বিয়ের আয়োজন উপভোগ করতে উইনজার ক্যাসেলে শনিবার অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মোট ২ হাজার ৬৪০ জনকে। এরমধ্যে কমিউনিটি সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য সারাদেশ থেকে ১ হাজার ২০০ ব্যক্তিকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছে এরইমধ্যে পৌঁছে গেছে ‘রয়েল ইনভাইটেশন’। এ তালিকায় যুক্ত হলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাছিম তালুকদার।
নাছিম তালুকদারের পৈতৃক নিবাস সিলেটের ওসমানীনগর এলাকার উমরপুর গ্রামে। গত শতকের ৪০-এর দশকে তার দাদা প্রয়াত হাজি হাসান আলী তালুকদার ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে ব্রিটেন এসেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিতে। পরে তিনি দেশে ফিরে যান। ৬০-এর দশকে ব্রিটেন পাড়ি জমান তার বাবা হাজি সিদ্দিক আলী তালুকদার। বসবাস করতে থাকেন ব্রিস্টলে। সেই সূত্রে নাছিম তালুকদারের বেড়ে ওঠা ব্রিস্টলে। তিনি বর্তমানে ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের চ্যারিটি ও হোমলেস ফোরামের অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ব্রিস্টল, বাথ এবং ওয়েস্টের সদস্য তিনি। মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেস্ট সোসাইটির কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড এবং ব্রিস্টলের সেরা ৩০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন নির্বাচিত হয়েছেন নাছিম তালুকদার।
নাছিম তালুকদার পেশায় আইটি ইঞ্জিনিয়ার। ‘ফিড দ্য হোমলেস’ নামে একটি দাতব্য সংস্থার তিনি প্রতিষ্ঠাতা। এই দাতব্য সংস্থাটি প্রতিটি সাপ্তাহিক ছুটিতে ব্রিস্টলের রাস্তায় থাকা ২৫০ থেকে ৩০০ জন গৃহহীন অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়। সংস্থাটিতে যুক্ত আছেন ৯ থেকে ৭৫ বছর বয়সী ৪ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। মুসলিম, খ্রিস্টান, জুইশ, হিন্দুসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানটির কাজে অংশ নিয়ে থাকেন। ব্রিটেনের মূলধারার মিডিয়াতে তাদের এই মহতী কাজ ফলাও করে প্রচার হয়েছে।