রাতে বাঁধ কেটে পানি শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ/ পানির অভাবে চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পিঠাপশী গ্রামের পশ্চিমে জাইর হাওরের বন হাইরে রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে পানি শুকিয়ে হাওরের মাছ ধরার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পানির অভাবে ৩০০ একর বোরো জমি চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিতায় পড়েছেন কৃষকরা। টাকার অংকে যা প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো।
কৃষকরা জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পিঠাপশী গ্রামের পশ্চিমে জাইর হাওরের বন হাইর বাঁধ প্রতি বছর পিঠাপশী গ্রামবাসীর অর্থায়নে মেরামত করে সেচ মৌসুমের জন্য হাওরের পানি সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছর হাওরে বোরো জমি চাষাবাদের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় বর্গাচাষী, কৃষক ও গৃহস্থরা। গত বুধবার (২ নভেম্বর) ভোর রাতে স্থানীয় ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের প্রভাবশালী আকিকুর রহমান আকিক সহ ১০/১২ জন জাইর হাওরে মাছ ধরার জন্য বাঁধ কেটে দেয়। এতে পিঠাপশী গ্রামের প্রায় ৫০০ কৃষক পরিবারের লোকজনদের ৩০০ একর বোর জমি পানির অভাবে অনাবাদী হওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।
পিঠাপশী গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক নায়েব আলী বলেন, হাওরে আমার ৩০ কেদার জমি রয়েছে। মাছ ধরার জন্য গ্রামের প্রভাবশালী ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের আকিকুর রহমান আকিক সহ তার লোকজন পাশের গ্রাম থেকে এসে আমাদের পানি সংরক্ষণের বাঁধ কেটে দিয়েছে। আমাদের জমিতে সেচ করার মতো পানি না থাকায়, পানির অভাবে হাওরের বোর জমি চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিঠাপশী গ্রামের গৃহস্থ ৭০ কেদার জমির মালিক ইলিয়াছ মিয়া বলেন, আমাদের হাওরের অধিকাংশ জমি সাধারণ কৃষক ও বর্গা চাষীরা চাষাবাদ করে থাকেন। আমিও আমার অধিকাংশ জমি বর্গা চাষীদের দিয়ে চাষাবাদ করাই। এখন পানির অভাবে জমি চাষাবাদ করা প্রায় অসম্ভব। পার্শ্ববর্তী বোঘলা নদী থেকে পানি আনা সম্ভব হলেও অতিরিক্ত অর্থ ও পরিশ্রম দুটোই করতে হবে।
পিঠাপই গ্রামের কৃষক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমি নিজেও একজন কৃষক, এই হাওরে প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। অধিকাংশ জমি স্থানীয় হতদরিদ্র লোকজন বর্গা চাষি হিসাবে চাষবাস করেন। প্রভাবশালীরা পানি শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে কৃষকদের বোরো জমি চাষাবাদ বিঘিœত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নয়, এটি গ্রামবাসীর তৈরী করা বাঁধ। শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশকে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জন্য বলেছি।