রাতে মোমবাতিই ভরসা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গত এক মাস বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে মেরামত কাজ করায় দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতো। ওই সময় রাতের বেলায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও কখনও ঘন্টার ঘন্টা আবার কখনও সারারাত ধরে চলতো লোডশেডিং। যার ধারবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তাই রাত হলেই মোমবাতি কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় গ্রাহকদের। ফলে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অধীনে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক গ্রাহককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রাহকেরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় সংশ্লিষ্টরা তাদের মুঠোফোন বন্ধ রাখে। ফলে গ্রাহকেরা সংশ্লিষ্টদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে পারে না। এতে ধর্মপাশাবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। তাই গ্রাহকেরা বাধ্য হয়ে সোমবার সকাল সাড়ে এগারটায় ধর্মপাশা উপজেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি, অপকর্ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে এবং আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবিতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করে। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
মানববন্ধনে ধর্মপাশায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন, সংগঠনের আহ্বায়ক একেএম
ওহীদুল ইসলাম কবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মজুমদার, জেলা পরিষদ সদস্য জুবায়ের পাশা হিমু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহম্মদ, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম, শিক্ষক আনিসুল হক লিখন, খয়েরচির গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর, শিক্ষার্থী সজিব তালুকদার প্রমুখ।
সংগঠনের আহ্বায়ক একেএম ওহীদুল ইসলাম কবীর বলেন, ‘পল্লীবিদ্যুতের হেয়ালীপনায় ধর্মপাশার মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙেছে। ধর্মপাশায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনসহ যদি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আরো কঠুর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’
নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ‘লাইনে লোড বেশি থাকায় প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’