রাধারমণ দত্ত কমপ্লেক্স, চার বছরেও হয়নি কোনো অগ্রগতি

জগন্নাথপুর অফিস
লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের স্মৃতি বিজড়িত জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে রাধারমন দত্ত কমপ্লেক্সের জায়গা নির্ধারণ করার চার বছর অতিবাহিত হলেও কাজের কোন অগ্রগতি না থাকায় সংস্কৃতি অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ও রাধারমণ অনুরাগীরা জানান, ২০১৫ সালে বৈষ্ণব পদাবলির মহারাজা লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের মৃত্যু শত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যাগে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জন্মভূমি জগন্নাথপুর উপজেলায় এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য (বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী) এমএ মান্নান প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা জগন্নাথপুরে রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দেন। সভাশেষে দুই মন্ত্রী কেশবপুর বাজার সংলগ্ন ভূমিতে রাধারমণ দত্তের কমপ্লেক্সের সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে কমপ্লেক্স এর স্থান নির্ধারণ করেন।
রাধারমন স্মৃতি সংসদের সভাপতি আফরোজ আলী জানান, দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জায়গা নির্ধারণের চার বছর অতিবাহিত হলেও কমপ্লেক্সের কাজের কোন অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা ব্যথিত। দ্রুত রাধারমন কমপ্লেক্সের কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা বলেন, রাধারমণ দত্ত তিন হাজারের মতো গান রচনা করে আমাদের লোকসংস্কৃতির ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর স্মৃতি বিজড়িত কেশবপুর গ্রামে একটি কমপ্লেক্স হোক এটা সারাদেশের সংস্কৃতি অনুরাগীদের দাবি। তিনি রাধারমণ দত্তের মতো গুণী কবিকে মরণোত্তর একুশে কিংবা স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, প্রতিদিন দেশ বিদেশের মানুষ কেশবপুর গ্রামে রাধারমন দত্তের সমাধি দেখতে আসেন। এখানে একটি কমপ্লেক্স থাকলে সংস্কৃতির চর্”া আরো বিকশিত হতো। তাই আমরা রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
রাধারমন সমাজ কল্যাণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ সভাপতি আছকির আলী জানান, প্রতি বছর ১১ নভেম্বর মহান এ লোককবির মৃত্যুবার্ষিকী আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে পালন করি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মাহফুজুল আলম জানান বলেন, যে ৩ একর ১৪ শতাংশ জমিতে কমপ্লেক্স হওয়ার কথা সেই জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় কমপ্লেক্স করা যাচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তির পর আমরা কমপ্লেক্সে নির্মাণে আবারো উদ্যোগী হব।
প্রসঙ্গত, রাধারমণ দত্ত জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে ১৮৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৫ সালে তিনি কেশবপুর গ্রামেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জীবদ্দশায় তিন হাজারের মতো গান রচনা করেন।