রানীগঞ্জে কুশিয়ারা সেতুর উদ্বোধন আজ/ সুনামগঞ্জ আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত হোক উন্নয়ন যাত্রায়

আজকের তারিখটি, ৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ; সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর জন্য বিশেষ এক দিন হিসাবে বিবেচিত হবে। আজকের দিনে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় সেতু, জেলার রানীগঞ্জে নির্মিত কুশিয়ারা সেতু। এই সেতু চালুর ফলে সুনামগঞ্জ জেলার যেকোনো প্রান্ত থেকে রাজধানীর সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ আগের চাইতে অনেক সহজ হয়ে যাবে। সড়ক পথে দূরত্ব কমবে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। অনুমান করা হয় এতে ঢাকা যাতায়াতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা যেতে এখন আর সিলেটের উপর দিয়ে যেতে হবে না। ডাবর থেকে জগন্নাথপুর হয়ে রানীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতুর উপর দিয়ে সোজা আউশকান্দি পৌঁছে যাওয়া যাবে। তাই এই সেতু নির্মাণের প্রস্তুতিপর্বের সময় থেকেই জেলাবাসীর মনে বিশেষ আনন্দের ঢেউ খেলেছিলো। সেই আনন্দ আজ পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। এই সেতু নির্মাণের প্রধান কারিগর হলেন জেলার সুসন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২.৩২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৬ বছর। পাগলা (ডাবর)-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি, এই আঞ্চলিক মহাসড়কের স্বপ্ন দেখেছিলেন জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ। ১৯৯৯ সনে তাঁর উদ্যোগে এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শুরু হয়। ২০০১ সনে তখনকার বিএনপি সরকার সড়কটিকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বলে বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে একটি অঙ্কুরোদগিত স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটানো হয়। ২০০৬ সনে আওয়ামী লীগের পুনঃ ক্ষমতা গ্রহণের পর ভাঙা স্বপ্ন আবারও দিগন্তের পূবাকাশে উদিত হয়। ২০১৪ সনে মূলত পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় এই সেতু প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদত হয়। আজকের এই শুভক্ষণে এই আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বিভাগের বৃহত্তর সেতু নির্মাণের দুই স্বাপ্নিক পুরুষ মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও এমএ মান্নানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করি বিন¤্র শ্রদ্ধা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার যেকোনো উন্নতিই সংশ্লিষ্ট এলাকার বহুমুখী উন্নয়ন ও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। যোগাযোগ, পরিবহন ও উৎপাদন, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হয়। দূরত্বকে এখন কিলোমিটারের হিসাবে পরিমাপ করা হয় না। বরং দূরত্ব এখন সময়ের সাথে সম্পর্কিত। কত সময়ে গৌন্তব্যে পৌঁছা যায় তাই হলো দূরত্বের পরিমাপক। তাই দেশের সর্বত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বহু অর্থ খরচে নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করার দৃশ্য চোখে পড়ে। দেশের অর্থনীতিতে তেজিভাব বিদ্যমান রয়েছে গত দুই দশক ধরে। এ সময়ে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বাণিজ্যের বহুমুখী সম্প্রসারণ ঘটেছে। এই উন্নয়নকে টেকসই ও আরও উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়াই হলো লক্ষ্য। বলাবাহুল্য এই লক্ষ্য পূরণে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো অন্যতম পূর্বশর্ত। সুতরাং রানীগঞ্জের কুশিয়ারা সেতু সহ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি এতদঞ্চলের উন্নয়ন আকাক্সক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত গড়ে উঠেছে শিল্পনগরী। এখন এই শিল্পনগরী সুনামগঞ্জ প্রান্তে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এলাকার কৃষিজ পণ্য বাজারজাতকরণের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। এসবই বাড়াবে জেলার অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহ। সুতরাং একটি সেতুকে ঘিরে এতো আনন্দ এবং উচ্ছ্বাস।
কুশিয়ারা সেতুর উভয় প্রান্তের আরও কয়েকটি সেতুসহ সড়কের প্রচুর উন্নয়ন করতে হবে। সেতুর সাথে সংযুক্ত সড়কের যথাযথ উন্নয়ন না ঘটলে পুরো সুবিধা পাওয়া যাবে না। স্বল্পসময়ে জেলার মানুষ রাজধানী পৌঁছার যে আকাক্সক্ষা পোষণ করেন তা বাস্তবায়নের জন্য সেতুর উভয় পাশের সড়কের যথাযথ উন্নয়নও কাম্য। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সচেতন আছেন বলেই আমাদের মনে হয়। আজকের এই শুভক্ষণে এই আনন্দ মুহূর্তে আমরা সরকারের প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রীসহ সকলকে আবারও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।