রানীগঞ্জ সেতু দেখতে মানুষের ঢল

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ সেতু আগামীকাল সোমবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় এই সেতু উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন উপলক্ষে রানীগঞ্জে সাজ সাজ বর বিরাজ করছে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে রানীগঞ্জ সেতু। এদিকে নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতু দেখতে ঢল নেমেছে মানুষের।
রবিরার বিকালে দেখা যায়, রানীগঞ্জ সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সেতু এলাকায় ব্যাপক সাজসজ্জা করা হয়েছে। সেতুর আড়াই কিলোমিটার জুড়ে মানুষজন হেঁটে হেঁটে দেখছেন। তরুণ তরুণী—শিশু—কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের ঢল নেমেছে। লোকজন মুঠোফোনে ধারণ করছেন ভিডিও, ছবি। অনেকে সেলফি তুলছে, কেউবা লাইভ করছে।
সেতু দেখতে আসা পৌর শহরের ইকড়ছই এলাকার বাসিন্দা লাকি বেগম জানান, শুনেছি সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু আমাদের রানীগঞ্জ সেতু। সেতু উদ্বোধনের লক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো এলাকা। কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে সেতু দেখতে এসেছি, খুবই ভাল লেগেছে।
জগন্নাথপুরের খাশিলা গ্রামের রিমি আক্তার জানালেন, আমরা খুবই আনন্দিত সেতুটির কাজ শেষে হওয়ায়। উদ্বোধনের পরপরই গণপরিবহন চলাচল শুরু হবে। দীর্ঘ লম্বা সেতুটি লোকজনকে আকৃষ্ট করছে।
কাওসার আহমদ নামের স্থানীয় এক তরুণ জানালেন, দৃষ্টিনন্দন সেতু দেখতে প্রতিদিন জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ সেতু এলাকায় শতশত মানুষ ভিড় করছেন, সপরিবারেও আসছেন অনেকে। স্বপ্নের এই সেতুর সঙ্গে ছবি তুলছেন।
সেতুর প্রজেক্ট ম্যানেজার হারুন অর রশিদ বলেন, ইতোমধ্যে সেতুটির শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ৭ নভেম্বর সেতুটি উদ্বোধনের পর গণপরিবহন চলাচল শুরু হবে। তিনি জানান, সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন।
প্রসঙ্গত, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রানীগঞ্জ সেতু নির্মিত হয়েছে। এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবি ছিল রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণের। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে কার্যাদেশ প্রদানের ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএম মান্নান এমপি। সেই থেকে স্বপ্নদেখা শুরু সুনামগঞ্জবাসীর।