রান আছে, দেখালেন মুশফিক-মেহেদী

সু.খবর ডেস্ক
থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তামিম ইকবাল, ৪৫ বলে ৩৩ রান করে নাঈম হাসানের স্পিনে ক্যাচ দেন স্লিপে -বিসিবি
ঢাকার ক্রিকেটে পিচের ওপর দোষ চাপানোর যে চর্চা হয় শেরেবাংলার উইকেটে প্রাণের অস্তিত্ব থাকলে তার প্রতিবাদ হতো সন্দেহাতীতভাবে। ক্রিকেট মাঠের হূৎপি খ্যাত ২২ গজ ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বুঝিয়ে দিত, পিচের ওপর দোষ চাপানো অযাচিত। গতকাল দুটি অনিন্দ্য ইনিংস খেলে সেটা আরও পরিস্কার করে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান। নাজমুল একাদশে খেলা মুশফিক ১০৯ বলে খেলেছেন ১০৩ রানের ইনিংস, যেখানে তার দলের বাকি দশজনে মিলে তুলতে পেরেছেন ১৬৫ বলে ৬৭ রান! আর তামিম একাদশের মেহেদী ব্যাটিং অর্ডারের নয় নম্বরে নেমে ৫৭ বলে খেলেছেন ৮২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ম্যাচের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে খেলা এই দুই ব্যাটসম্যান দেখিয়ে দিয়েছেন ফোকাস থাকলে রান করার পথে উইকেট বড় কোনো বাধা নয়। চেষ্টা, ধৈর্য ও ফোকাসের সমন্বয় ঘটিয়ে বেসিক ক্রিকেট খেললে যে সফলতা ধরা দেয় মুশফিক-মেহেদী ব্যটিং তার বিমূর্ত প্রমাণ। ১২৫ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারানো তামিম একাদশ মেহেদীর নৈপূণ্যে জোগাড় করে ৯ উইকেটে ২২১ রান। আর মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ৭৪ রানে ৫ উইকেট হারানো নাজমুল একাদশ তোলে ১৭৯ রান। ৪২ রানে ম্যাচ জিতে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল তামিম একাদশ। সমান দুই ম্যাচ খেলে একটি করে জয় নাজমুল একাদশ আর মাহমুদুল্লাহ একাদশেরও।

বৃষ্টির কারণে উইকেটের স্যাঁতসেঁতে হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বাংলা বর্ষপঞ্জিকার ষষ্ঠ মাস আশ্বিনের বৃষ্টিস্নাত কন্ডিশনের সঙ্গে ক্রিকেটাররা তো ভালোই পরিচিত। প্রতি বছর এ সময়েই তো দেশের ক্রিকেট মৌসুম শুরু করে বিসিবি। কভিড-১৯ মহামারি না হলে এ সময়ে জাতীয় লিগের খেলা থাকত মাঠে। নিউ নরমাল সময়ের কারণে এবার সেখানে হোম অব ক্রিকেটে হচ্ছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের মতো পরীক্ষামূলক ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। প্রায় সাত মাস পর তিন দলের এই ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামা ক্রিকেটারদের ব্যাটে রানের দেখা নেই খুব একটা। জাতীয় দলের তারকা ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থ হতে দেখা যাচ্ছে বেশি। উইকেট পতনের মিছিল হয়েছে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে। উদ্বোধনী ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ একাদশ গুটিয়ে গেছে ১৯৬ রানে। লো-স্কোরিং সে ম্যাচে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি যা একটু চোখের প্রশান্তি। মাহমুদুল্লাহ ৫১ রান করেছিলেন ৮২ বলে। বিজয়ী দল নাজমুল একাদশের তৌহিদ হৃদয় ৬৭ বলে ৫২ আর ইরফান শুক্কুর ৭৮ বলে ৫৬ রান করেছিলেন। অবশ্য পরের ম্যাচের স্কোর সিরিজের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন ১০৩ রান তামিম একাদশের। গতকাল দেখা মিলল সিরিজের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরির। যার সুবাদে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ২২১ রান করেছে সেই তামিম একাদশ। সেটাও ওই মেহেদীর পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসের কৃতিত্বে।

১০৮ রানে সাত উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ক্রিজে অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন মেহেদী। সাইফউদ্দিন ১১ বল খেলে ৩ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলে মেহেদী পার্টনার হিসেবে পান তাইজুলকে। বোলিংয়ের এই দুই সতীর্থ মিলে ব্যাটিংয়ের ছিদ্র মেরামত করে গেছেন ধৈর্য দেখিয়ে। মেহেদী হাত খোলার কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি হানা দিলে খেলা বন্ধ থাকে এক ঘণ্টা সাত মিনিট। দেখার ছিল বৃষ্টি-উত্তর সময়ে তারা জুটি অবিচ্ছেদ্য রাখতে পারেন কিনা। সেখানে ভালোভাবেই সফল হয়েছেন দু’জন। তাইজুল একপ্রান্ত আগলে রাখায় শট খেলা সহজ হয়েছে মেহেদীর জন্য। ৯টি চার ও তিন ছক্কায় ১৪৩.৮৬ স্ট্রাইকরেটে ৮২ রান করতে ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত ছিলেন তিনি। তামিম একাদশের ইনিংসে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ব্যাটিং ছিল মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৪৬ বলে ১২ রান করা। তার চেয়েও বিরক্তিকর ছিল রান তাড়া করতে নেমে সৌম্যর ৪৭ বলে ৯ রানের ইনিংসটি। একই দলের তরুণ ক্রিকেটার সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, আফিফ হোসেন আর তৌহিদ হৃদয়ও রান পাননি। তবে প্রথমে ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে, এরপর একাই দলকে টেনে নেন মুশফিক। ১০৩ বলে তিন অংকের ঘর ছোঁয়ার পর মুস্তাফিজের বলে আউট হয়ে গেলে পরাজয় নিশ্চিত হয় নাজমুল একাদশের।
সূত্র : সমকাল