রামকৃষ্ণ আশ্রম- সাত্ত্বিকভাবে অনুষ্ঠিত হয় মায়ের পূজা

স্টাফ রিপোর্টার
অনেক বছর আগে থেকেই পাড়ার লোকজন সুনামগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রমে পূজা করতেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনামগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রম কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ১৯৭৮ সালে শুরু হয়। সে হিসেবে এবার পূজা ৪২তম বছরে পা দিলো। রামকৃষ্ণ আশ্রমের তখনকার কমিটির সভাপতি ছিলেন ডাক্তার ধীরেন্দ্র দেব চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাশ।
রামকৃষ্ণ আশ্রমে মায়ের প্রতিমা প্রতিবছরই একই প্যাটার্নে এক কাঠামের মাঝে তৈরি করা হয়। একান্নবর্তী পরিবার বুঝাতে এক কাঠামোর মধ্যে প্রতিমা তৈরি করা হয়। দেবী পুত্র-কন্যা সহ সপরিবার উপস্থিত থাকেন। সাধনার দ্বারা মানুষ বিশ্বরূপিনী এই মহাসত্তার সহিত নিজের একাত্মতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। আর এই একাত্মতা উপলব্ধিতেই মানুষের সাধনার পরিসমাপ্তি,আত্মবিকাশের পরিপূর্ণতা। যুগে যুগে রামপ্রসাদ, কমলাকান্ত, বামাক্ষ্যাপা ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস তারই প্রমাণ রেখে গেছেন।
রামকৃষ্ণ আশ্রমে দেবী দশভুজা এবং মহিষমর্দিনীরূপে অধিষ্ঠিতা। বিপুল ব্যয়সাধ্য মন্ডপসজ্জা, ব্যতিক্রমী মূর্তি-ভাবনা, থিম-পুজো ইত্যাদি হালের পূজাসংস্কৃতির প্রতিফলন এখানে অনুপস্থিত। তাই বলে পূজার আনন্দের মোটেই ঘাটতি নেই। উপরন্তু এখানকার পূজায় যা আছে, তা অনেক জায়গাতেই বিরল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসারে পূজা হয়ে থাকে। পুজো মূলত ভক্তি-প্রধান। কঠোর বিধিনিয়ম মেনে দেবীর আরাধনায় আড়ম্বরের কোনও স্থান নেই। আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় প্রেম আর ভক্তি রসের ধারা। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ থাকে প্রতিদিনই। প্রথা অনুসারে আশ্রমের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। বিসর্জনের পর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা।
সুনামগঞ্জের ষোলঘর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাশ বলেন, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে রামকৃষ্ণ আশ্রমের সমস্ত অনুষ্ঠানাদি হয়ে থাকে। আমাদের শহরের অন্যান্য পূজার নিয়মের সাথে এটি মিলে না। মায়ের পূজা সাধারণ, বিশুদ্ধ ও সাত্ত্বিকভাবে করার চেষ্টা করি। জাঁকজমকপূর্ণ বা পূজাকে অন্যভাবে নিতে চাই না। আশ্রম কমিটির আয়োজনে আশ্রমে ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া দুর্গোৎবের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম আমি। এর আগেও আশ্রমে পূজা হতো। তবে তা করতেন পাড়ার লোকজন। এবার সব কিছু মিলিয়ে পূজার বাজেট প্রায় ৫ লাখের মতো।
তিনি বলেন, মানুষের হৃদয়ের মাঝে সৎ ও অসৎ প্রবৃত্তির যুদ্ধ সর্বদাই চলছে। মহাশক্তি জ্ঞানময়ী দুর্গার স্মরণ নিলে আমাদের সৎ প্রবৃত্তিগুলো জেগে উঠে। শাশ্বত মাতৃশক্তির আরাধনাই পারে আমাদের বর্তমান ক্রান্তিকাল কে পরিবর্তন করতে।