রীপা অন্তর্ধান রহস্য উদ্ঘাটিত হওয়া জরুরি

কুসীদজীবী ধনাঢ্য নারী রীপা বেগম নিখোঁজের পর ইতোমধ্যে দুই মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। তিনি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শহরের নতুন পাড়ার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর তার ভাই ১০ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। যার সর্বশেষ ব্যক্তি উজ্জ্বল মিয়াকে সোমবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুমন মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি। দুই ব্যক্তি পুলিশের হাতে গ্রেফতার বা আটক হলেও নিখোঁজ রীপা বেগমের ভাগ্যে কী ঘটেছে সেই রহস্যের কিনারা হয়নি এখন পর্যন্ত। রীপা বেগম কি নিজ থেকে অন্তর্ধান হয়েছেন নাকি তাকে অপহরণ করা হয়েছে কিংবা তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কিনা; সেসব প্রশ্নের উত্তর অনুদ্ঘাটিতই রয়ে গেছে। শহরের ভিতরে সংঘটিত এরকম একটি ঘটনার রহস্য দুই মাসেও কিনারা না হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। নিখোঁজ রীপা লগ্নি কারবার করতেন। এই সুবাদে অনেককেই তিনি সুদে টাকা ধার দিয়েছেন। রীপার ভাই কর্তৃক সন্দেহভাজনরা কোন না কোনভাবে রীপার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ধার নিয়েছেন। অর্থাৎ রীপার নিখোঁজ হওয়ার পিছনে তার কাছ থেকে লগ্নি গ্রহণকারীদের একটা যোগাযোগ থাকতে পারে। পুলিশ নিশ্চয়ই এই সংযোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখছে। বাহ্যত শক্তিশালী কোন প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র কেউ একজন অভিযোগ করেছেন বলে অথবা নিতান্তই সন্দেহের কারণে পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারে না। তবে তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ যে কাউকে থানায় তলব করতে পারে। চার দেয়ালের ভিতর থেকে রীপার নিখোঁজ রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ বাহিনিকে কিছুটা বেগ পেতে হবে সত্য, কিন্তু অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের জন্য রহস্যের জটাজাল তাদেরকে অবশ্যই ছিন্ন করতে হবে। নতুবা আমাদের শান্ত নিরিবিলি এই শহরটিতে অপরাধের নানা মাত্রা যুক্ত হতে থাকবে। পুলিশ শুধু একটি সম্ভাবনাকে বিবেচনায় না নিয়ে এই খুনের পিছনে আরও কোন কারণ থাকতে পারে কিনা, রীপা নিখোঁজ হলে কারা কারা লাভবান হতে পারেন, তার সাথে বিশেষ কারও শত্রুতা ছিল কিনা; সেইসব সূত্রগুলোও ভাল করে যাচাই বাছাই করে ক্রমশ সত্যের কাছে গিয়ে পৌঁছাবে। যেহেতু রীপা অন্তর্ধানের কোন চাক্ষুষ স্বাক্ষী নেই সেহেতু এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা প্রক্রিয়ার উপরই নির্ভর করতে হবে। আমরা জানি না, রীপার মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি) বা অন্য কোন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে কিনা। তবে এ ধরনের অপরাধীকে চিহ্নিত করতে মামলাটিকে সিআইডি বা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ন্যস্ত করাটাই উত্তম হবে বলে সাধারণভাবে আমরা মনে করি।
জনপদকে শান্তিপূর্ণ রাখতে, নাগরিক সমাজকে নিরপোদ্রব জীবন যাপন করতে দিতে পুলিশ বাহিনি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় নিয়োজিত থাকার কথা। যেকোন অপরাধ প্রবণতাকে নির্মূল করতে এই বাহিনির আন্তরিকতার কোন ঘাটতি রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। নাগরিক সমাজের এই আস্থার প্রতিদান পুলিশ বিভাগকে দিতে হবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। আজ যদি রীপা বেগমের নিখোঁজ ঘটনার সাথে জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যেত তাহলে নাগরিক সমাজ শত মুখে পুলিশবাহিনির প্রশংসায় উচ্চকিত হতেন। এতে করে নাগরিকরা নিজেদেরকে অধিকতর নিরাপদ ভাবার সুযোগ পেতেন এই ভেবে যে, এই শহরে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই, তা সে অপরাধ যত জটিল কিংবা কঠিনই হোক না কেন।