রেলপথ স্থাপনই হোক জেলার অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

পরিকল্পনা মন্ত্রীর পদ গ্রহণ করার পর এমএ মান্নান শুক্রবারই প্রথম এলাকায় এলেন। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁকে বিপুলভাবে বরণ করেছেন। সিলেট বিমানবন্দর থেকেই শুভেচ্ছায় সিক্ত হতে থাকেন মন্ত্রী, পথিমধ্যে নানা জায়গায় অভিনন্দন জানান্রো জন্য অপেক্ষমাণ জনতার ভালবাসার কাছে পরাভব মেনে তাঁর গাড়ি থামাতে হয়েছে, কথা বলতে হয়েছে। শনিবারের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রধান সংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ এমএ মান্নানের এলাকায় ফেরার ঘটনাটি দখল করে নিয়েছে। এই যে একজন মন্ত্রীকে ঘিরে এত উচ্ছ্বাস এত ভালবাসা মানুষের এত আগ্রহ, এর পেছনে রয়েছে মানুষের কিছু সাধারণ আবেগ ও চাহিদা। একজন ভাল মানুষের মন্ত্রীত্ব লাভ যেমন সকলকে উদ্বেলিত করেছে তেমনি তাঁর মাধ্যমেই জেলার আরও ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ বাস্তবায়িত হবে এমন একটি চাহিদাও তৈরি হয়েছে সর্বত্র। ঠিক এই সময়ে সুনামগঞ্জের উন্নয়ন আকাক্সক্ষা ও মন্ত্রী এমএ মান্নান সমার্থক হয়ে উঠেছেন। ব্যক্তি বিশেষের এমন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠতে পারা তাঁর সফলতা নিঃসন্দেহে।
শুক্রবারের বিভিন্ন সংবর্ধনা সভা-সমাবেশে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান অনেক কথা বলেছেন। তিনি যেমন সুষম উন্নয়নের কথা বলেছেন, বলেছেন স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার কথা, এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার আশ্বাস যেমন দিয়েছেন তেমনি সাধারণ মানুষকে এই সরকারের কর্মকা-কে সমর্থন জুগানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তবে গণমাধ্যম মন্ত্রীর একটি কথাকে লুফে নিয়েছে। কথাটি হলো সুনামগঞ্জে রেললাইন স্থাপনের বিষয়ে তাঁর আশ্বাস। প্রায় সব গণমাধ্যম রেললাইন স্থাপনে মন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। শুধু গণমাধ্যম নয়। আমরা দেখেছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও মন্ত্রীর রেললাইন করা সংক্রান্ত বক্তব্যটি ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে। গণমাধ্যম বা যোগাযোগ মাধ্যম মূলত ব্যাপক জনগোষ্ঠীর আকাক্সক্ষাকেই ধারণ করে। ফলে প্রচারণায় অপরাপর সবকিছুকে ছাপিয়ে সর্বত্র রেললাইন স্থাপনের বিষয়টি ব্যাপকতা পাওয়ায় সহজেই বুঝা যায় এটি জেলাবাসীর একটি মৌলিক চাহিদা। এখন যখন অর্থনৈতিক কর্মকা- বেড়েছে, বেড়েছে পড়াশোনায় আগ্রহ, বর্ধিত হয়েছে মানুষের কর্মক্ষেত্র; তখন সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থাটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতেই অবস্থান করে। আর জেলায় রেললাইন স্থাপনের স্বপ্ন বহু পুরানো। সেই ব্রিটিশ আমলে পূঁজির স্বার্থে সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেললাইন স্থাপিত হয়েছিল কিন্তু এর পর আর এক ইঞ্চি রেলপথ সম্প্রসারিত হয়নি জেলায়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যখন স্বল্পকালীন রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন মানুষের এই স্বপ্ন আবার জেগে উঠেছিল। কিন্তু তাঁর অনাকাক্সিক্ষত আকষ্মিক বিদায় সেই ম্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটায় সামান্য সময়ের ব্যবধানে। কিন্তু স্বপ্নের স্বভাব হলো অনুকূল পরিবেশ পেলেই জেগে উঠা। এবার মন্ত্রী এমএ মান্নানকে ঘিরে পুরানো সেই স্বপ্ন জেগে উঠেছে। মন্ত্রীকে সাধারণ মানুষের এই স্বপ্নকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এক অর্থে সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যাল কলেজের চাইতেও রেলপথ স্থাপনকে আমরা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কারণ সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হলে পড়াশোনাসহ মানুষের সমস্ত কর্মকা-ই গতিপ্রাপ্ত হবে। সড়কপথের অব্যাহত দুর্ঘটনা ঝুঁকি, সড়কের উপর যানবাহনের অত্যধিক চাপ, পরিবহন সেক্টরের নানামুখী নৈরাজ্য; প্রভৃতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গণপরিবহন হিসাবে রেলপথকে প্রাধান্য দেয়া বাংলাদেশের জন্য একটি অগ্রাধিকারযোগ্য কাজ হওয়া উচিৎ।
সকলে আশা করেন সরকারের প্রথম বছরেই জেলায় রেলপথ স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে এই সরকারের মেয়াদেই এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে। সজ্জন রাজনীতিক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের কারণে সকলের মনে এই প্রতীতি জন্মেছে।