লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে উচ্চবিদ্যালয় স্থাপনের দাবি

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে উচ্চবিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এই ইউনিয়নের জানিগাঁও এলাকায় আলহাজ্ব জমিরুন নুর উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো এলাকার শিক্ষার্থীর জন্য অনেক দূরে এই উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান। এই কারণে একজন শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয়ে যেতে সময়ও লাগে বেশি এবং খরচও হয় বেশি। গোবিন্দপুর এবং হবতপুর-বারঘর এলাকায় দুই স্থানে উচ্চবিদ্যালয় নির্মাণের জায়গা নির্ধারিত রয়েছে। নির্ধারিত স্থানে দ্রুত উচ্চবিদ্যালয় স্থাপনের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে রয়েছে ১৬টি গ্রাম। এতে লোকসংখ্য্ ারয়েছে অন্তত: ২৫ হাজার। শিক্ষার্থী রয়েছে সহ¯্রাধিক। জানিগাঁও এলাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই হাইস্কুলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে অথবা যানবাহন করে আসা-যাওয়া করতে হয়। শুকনা মওসুমে যদিও পায়ে হেঁটে বা যানবাহন করে আসা-যাওয়া করা যায়। কিন্তু বৃষ্টির দিনে বা বর্ষা মওসুমে নৌকা দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় দূরের গ্রামের শিক্ষার্থীরা। এই কারণে উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়–য়া স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে এসে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। কিন্তু গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রাইমারীতে লেখাপড়া সমাপ্ত করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন জরুরি প্রয়োজন বলে স্থানীয় একাধিক শিক্ষানুরাগী জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম থেকে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে হয় জানিগাঁও এলাকায় আলহাজ্ব জমিরুন নুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে একজন শিক্ষার্থীর আসা-যাওয়া গাড়ি ভাড়া ৩০-৪০ টাকা খরচ হয়। হবতপুর, ফকিরনগর ও শ্রীপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরাও প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বা যানবাহন দিয়ে আসতে হয় এই উচ্চবিদ্যালয়ে। জলিলপুর, ফিরোজপুর, ওয়েজখালী, বারঘর, হালুয়ারগাঁও, ছলিমপুর এলাকার শিক্ষার্থীরাও অন্তত: ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বা যানবাহন করে আসতে হয় উচ্চবিদ্যালয়ে। আবার কোনো কোনো স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী শহরের বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।
ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি প্রয়োজন। এই ইউনিয়নের বেশিরভাগ গরীব পরিবারের শিক্ষার্থী প্রাইমারীতে শিক্ষা শেষ করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন একান্ত দরকার।
হালুয়ারগাঁও গ্রামের রেজাউল করীম বলেন, উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে বারঘর এলাকায়। উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন হলে শিক্ষার হার বাড়বে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হলে শিক্ষা অর্জন করতে হবে সকল পরিবারের সন্তানেরা। এই এলাকার সন্তানেরা শুধু প্রাইমারী পাশ করে লেখাপড়া শেষ দিতে হচ্ছে। উচ্চ বিদ্যালয় অনেক দূর। যেতে অনেক কষ্ট এবং যানবাহনে গেলে খরচও অনেক বেশি।
আমিন উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নে আরেকটি উচ্চবিদ্যালয় জরুরি প্রয়োজন। নইলে শিক্ষা অর্জনে আরো ধ্বস নামবে। এমনিতেই পিছিয়ে পড়েছে এই ইউনিয়নের অনেক গ্রামের শিক্ষার্থী।
সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ইসলামপুর গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে গরীব শিক্ষার্থীরা উচ্চবিদ্যালয়ে যেতে চায় না। যাতায়াত খরচ হয় বেশি। এই জন্য ইউনিয়নের যেকোনো স্থানে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন জরুরি প্রয়োজন।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন এলাকায় আরও একটি উচ্চ বিদ্যালয় জরুরি প্রয়োজন। এই চিন্তা থেকে গোবিন্দপুর এবং হবতপুর-বারঘর এলাকায় দুই স্থানে উচ্চবিদ্যালয় নির্মাণের জায়গা নির্ধারিত আছে। উচ্চবিদ্যালয় দ্রুত স্থাপন করা হলে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ছেলে- মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার প্রসার ঘটবে।