লাগাতার বৃষ্টিতে পঁচে নষ্ট হচ্ছে আমন জমি, দুশ্চিন্তায় আমন চাষীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
আশি^ন মাসেও লাগাতার বৃষ্টি! বেকায়দায় পড়েছেন সুনামগঞ্জের আমন চাষীরা। তিন দফা বন্যার কারণে মৌসুমের শেষ পর্যায়ে আমন জমিতে রোয়া দিয়েছিলেন চাষীরা। অসময়ের বৃষ্টিতে বেশিরভাগ আমন জমি আবার পানিতে ডুবেছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ হয় লাগাতার বৃষ্টি থাকায় পঁচে যাচ্চে রোপন করা আমনের চারা। বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার আমনচাষী। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ৬০ হেক্টর আমন জমি ডুবেছে দাবি করলেও আমন চাষীরা বলেছেন, ডুবে যাওয়া জমির পরিমাণ এর চেয়ে বহু বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, জেলার ১১ উপজেলায়ই এবার আমনের চাষাবাদ হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদরে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল- ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর, দোয়ারাবাজারে ১৪ হাজার ৫৬০, বিশ^ম্ভরপুরে ৮ হাজার ৭০০, জগন্নাথপুরে নয় হাজার ৪৫৮, জামালগঞ্জে তিন হাজার ৯৫০, তাহিরপুরে ছয় হাজার ১০০, ধর্মপাশায় ৫৩৪, ছাতকে ১৩ হাজার ১০০, দিরাইয়ে দুই হাজার ৭১৫ ও শাল্লায় চার হাজার ৭০ হেক্টর। সব মিলিয়ে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর। কৃষি বিভাগের দাবি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ হেক্টর বেশি চাষাবাদ হয়েছে অর্থাৎ ৮১ হাজার ৩৯৫ হেক্টর আমন চাষাবাদ হয়েছে।
কিন্তু গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিপাতে আবারও শঙ্খার মধ্যে পড়েছেন আমন চাষীরা।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার পুরান মুক্তিখলা গ্রামের কৃষক ইদ্রিছ আলী বললেন, ১৫ কেয়ার (৫ একর) আমন জমি আছে, ১২ কেয়ারের (৪ একর) মতো চাষ করছিলাম। বেশিরভাগই পানির নীচে গেছেগি। পানির নীচে যাওয়ার পরে ২ দিন দিছে গরম, গরমে পঁচা শুরু অইছিল, এখন আবার বৃষ্টিতে ডুবাইলার। অখন আর এই রোয়ায় কাম অইতোনায়, নতুন কইরা রোয়া দেয়ার সময়ও নাই।
এই উপজেলার লামাগাঁওয়ের বড় কৃষক প্রভাত দাস বললেন, দুইবার আমনের বীজতলা ডুবছে। এরপরে চারা কিইন্না আইন্না ২০ একর জমি রোয়া দিছি। এখন মেঘে ডুবরায় বেশির ভাগ জমিন ডুবাইলিছে। এখন যদি রোয়া পঁচে, আর লাগানির সময় নাই।
বিশ^ম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানালেন, ৬ কেয়ার (দুই একর) জমি রোয়া দিছেন তিনি। ৫ কেয়ার পানির নীচে গেছে, তিন-চার দিনের মধ্যে পানি নামলে রোয়া টিক থাকবে, না হয় পঁচে নষ্ট হবে।
একই ধরণের মন্তব্য করলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পাঠানবাড়ি’র আমির আলী। আমির আলী এক একর জমি করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফর আলী বললেন, উপজেলাগুলো থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৬০ হেক্টরের মতো আমন জমি পানিতে ডুবেছে। ৫-৭ দিন পর্যন্ত এই চারা পানির নীচে থাকলেও নষ্ট হবে না। চারায় ডেম গজাবে এবং ধানও আসবে।