লুটপাটের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে প্রতিরোধ গড়তে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
দেশে এখন লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের রাজত্ব চলছে। দিনে-দুপুরে চলছে গুম-খুন। মানুষের কোনো নিরাপত্তা নাই। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। সরকার দুর্নীতি চাপা দিতে মরিয়া। দেশে লাখ লাখ যুবক বেকার যুবক, তাঁদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। এ অবস্থায় যুব সমাজ বসে থাকতে পারে না। যুব সমাজকে লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সুনামগঞ্জে জেলা যুব ইউনিয়নের দশম জেলা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। শুক্রবার সকালে পৌর শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই সম্মেলন হয়।
সকাল ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট নারীনেত্রী ও জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি শীলা রায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ।
জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য, জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি বিজন সেন রায়, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পিনাক রঞ্জন দেবনাথ, সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নিরঞ্জন দাস খোকন, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার নেতা সত্যজিৎ আচার্য, মারুফ মান্না, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তারেক চৌধুরী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ বলেন,‘দিন দিন বেকার যুবকদের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ এ নিয়ে সরকারের কোনো চিন্তা নেই। লেখাপড়া শেষ করার পর যুবকদের অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে। এক বছরের মধ্যে যোগ্যতা অনুযায়ী তাঁদের কাজ দিতে হবে। এক বছরের মধ্যে যদি কাজ দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে বেকার ভাতা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন,‘লুটেরা ব্যবসায়ীদের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেন। তারা খেলাপী হয়। কিন্তু যুবকেরা ঋণ চাইলে নানা তালবাহানা করেন। বলেন, তারা ঋণ শোধ করতে পারবে না। হিসাব করে দেখেন, একজন লুটেরা ঋণ খেলাপী যে টাকা নিয়ে বসে আছে তা দিয়ে দেশের কত হাজার যুবককে স্বাবলম্বী করা যায়। যুব জাগরণ হলে কেউ ঠেকাতে পারবে না। শাহবাগ আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদাহরণ কিন্তু আছে।’
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আবু তাহেরকে সভাপতি, মো. মাইনুদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক এবং অভিজিৎ রায়কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সংগঠনের জেলা শাখার ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি করা হয়।