শতবর্ষ প্রাচীন খেওরের লৌহসামগ্রী চুরি

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
শনির হাওরে গৌরিপুর জমিদারী আমলের শতবর্ষী খেওরের (স্লুইসগেট) সরঞ্জামাদি চুরি করে নিয়ে গেছে হাওরের বাঁধের কাজে নিয়োজিত পিআইসির লোকজন। চুরি হওয়া লোহাসামগ্রীর ওজন ৫ মেট্রিক টন হবে বলে হাওর পাড়ের লোকজন জানান। বর্তমানে এই খেওরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শনির হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ দেখতে গিয়ে দেখা যায়,শনির হাওরের শতবর্ষী খেওরের (বর্তমানে স্লুইসগেট নামে পরিচিত) যাবতীয় ইস্পাত লোহা সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। খেওরের পাশেই রয়েছে শনির হাওর জলমহালের মালিকের বসতঘর। কথা হয় জলমহালের ইজারাদার তাহিরপুর সদর
ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন,শনির হাওরে অবস্থিত গৌরিপুর জমিদারী আমলের শতবর্ষী খেওরটি ছিল হাওরের বিশাল ঐতিহ্য। বাইরের অনেক লোকজন এটি দেখতে আসতেন।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জলমহালের পাহারাদার দিয়ে লুণ্ঠিত হওয়া লোহা সামগ্রীর খোঁজ খবর নেন তিনি। লুণ্ঠিত লৌহসামগ্রীর সন্ধান পেয়েছেন বলে এ প্রতিবেদকে তিনি জানান।
তিনি এক পর্যায়ে বলেন, শনির হাওরে বাঁধের কাজে নিয়োজিত পিআইসি(প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)’র সভাপতি বেহেলী ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলামের প্রকল্প কাজে নিয়োজিত এসকেভেটরের চালক জামালগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের সেলিম মিয়া বুধবার দিবাগত রাতে এসকেভেটর দিয়ে খেওরের যাবতীয় লোহা সামগ্রী ভেঙ্গে নিয়ে যায়। ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়া লোহাসামগ্রী সেলিম মিয়া মাটির নীচে খেওরের পাশে এক জায়গায় পুতে রেখেছে এবং তিনি তার সন্ধান পেয়েছেন বলেও জানান। শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদ(৮৫) জানান, গৌরিপুর জমিদার কর্তৃক নির্মিত শনির হাওরের খেওরের লোহার ঢালাগুলো কার্তিক মাস এলে হাতি দিয়ে তুলে দেয়া হতো হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য। আবার ফাল্গুন মাসে এলে খেওরের ঢালাগুলো নামানো হতো যাতে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করতে না পারে। এ খেওরের লোহাসামগ্রী যারা লুটপাট করেছে তারা দেশ, জাতি ও ঐতিহ্যের শত্রু বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম মিয়ার সাথে (০১৭৮৩১৮৫৭১১) মোবাইলে বারবার কথা বলার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, ২০১০ সালে ভারতের গৌতমঘোষ পরিচালিত মনের মানুষ ছবিতে শনির হাওর খেওরের দৃশ্য ছিল। খেওরের যাবতীয় লোহা সমাগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত হয়েছেন ।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন,তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। লুটপাটকৃত লোহাসামগ্রী মাটির নীচে এক জায়গায় পুতে রেখেছে এমন সংবাদ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে।