শপথ নিয়ে তাঁরা যথাযোগ্য কর্তব্য করেছেন

বিএনপির ৫ সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য পদে বহাল রইলেন। এর আগে এই ৫ সদস্যের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা ও রাজনৈতিক বাহাস চললেও গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের শপথ গ্রহণের পরই মূলত ধারণা করা হচ্ছিল ঐক্যফ্রন্টের সকলেই নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রমের আগেই শপথ নেবেন। অবশ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ নেননি বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমে শপথ গ্রহণের জন্য তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন মর্মে সংবাদ প্রকাশ হলেও ফখরুল সেই সংবাদকে অসত্য উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে তারেক রহমানের মতামত রয়েছে বলেছেন। যেহেতু তারেক রহমান, যিনি বিএনপি’র সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অঘোষিত প্রধান ব্যক্তি, অনুমতি দিয়েছেন সেহেতু কেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ নেননি তা বোধগম্য নয়। তিনি অবশ্য একে কৌশল বলছেন যেমন বিএনপির অপর সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়টিও তাঁর ভাষায় ‘কৌশল’। শপথ গ্রহণ করার মধ্যে কৌশলের কিছু আভাস মিলে কিন্তু তাঁর শপথ গ্রহণ না করার মধ্যে কোন কৌশলের আভাস মিলে না। তাই ধারণা করা যায়, বিশেষ ব্যবস্থাধীনে তিনিও হয়তো শপথ নিতে পারেন।
রাজপথে ব্যর্থ বিএনপি’র অস্তিত্ব এখন নির্ভর করছে দলীয় ৬ এমপি’র উপর। তাঁরা শপথ নিয়ে সংসদে সরব না হলে বিএনপি’র রাজনৈতিক অস্তিত্বই মহাসংকটে পড়তে যাচ্ছিল। সুতরাং শপথ নেওয়ার পক্ষে মতামত না দিয়ে দলটির কোন উপায়ও ছিল না। সদর্থকভাবে বিশ্লেষণ করলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের বাইরে আর কিছু করার অবকাশ নেই। নির্দিষ্ট এলাকার নির্বাচকম-লী তাঁকে ভোট দিয়েছেন এ কারণেই যে, জাতীয় সংসদে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা ও তার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাদের স্বার্থে সরব থাকবেন। এর উল্টো আচরণ অর্থাৎ শপথ গ্রহণ না করা এবং শপথ নিলেও সংসদ বর্জনের মাধ্যমে নির্বাচকম-লীর প্রদত্ত রায়কেই কেবল অসম্মান করা হয়। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রেক্ষিতে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপি কিংবা গণফোরাম-ঐক্যফ্রন্টের যে ৭ সদস্য শপথ নিয়ে সংসদে অংশ নেবেন, সরকারি দলকে তাদের সংসদে ধরে রাখতে হবে। সংখ্যায় কম বলে তাঁদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য কিংবা অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। সংসদে কার্যকরী বিরোধী দল বলতে, তা তাঁরা সংখ্যায় যত অল্পই হন না কেন, এই ৭ জনই। কার্যকর বিরোধী দল না থাকলে সংসদ প্রাণবন্ত হয় না। তাই তাঁদেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে সরকারি দলকে। আর অবজ্ঞা-অবহেলা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁদেরকে দীর্ঘমেয়াদী সংসদ বর্জনের মত হঠকারী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিলে তার ফল হবে গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়কর। তদ্রুপ শপথ গ্রহণকারী বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের এমপিগণকেও জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সত্যিকার অর্থেই সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি এবারের জাতীয় সংসদ প্রাণবন্ত ও কার্যকর হয়ে উঠে তাহলে শেষ পর্যন্ত বিজয় হবে গণতন্ত্র ও রাজনীতির। মানুষ সর্বাবস্থায় সর্বত্র গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও কর্তব্যবোধের বিস্তৃতি দেখতে চান। সংসদকেন্দ্রীক রাজনীতিতে বিএনপি এই দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। এই দল অতীতে চার বার ক্ষমতায় ছিল। এই দলের রয়েছে তৃণমূলে অগণিত কর্মী সমর্থক। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপিকে অস্বীকার কোন জো নেই। এই সত্যের খাতিরে জাতীয় সংসদের সামনের অধিবেশনগুলো অনেক বেশি বাঙ্ময় ও অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।