শহরকে বসবাসের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে

এ বছর দ্বিতীয় বারের মত চরম জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হল পৌরশহর। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষল ধারার বৃষ্টি মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় পুরো শহরে তৈরি হয় অসহনীয় জলাবদ্ধতা। প্রায় সকল আবাসিক এলাকার গলি ও উপগলিগুলোর উপর পানি উঠে যায়। ড্রেনের ময়লা পানি প্রবেশ করে মানুষের বাসাবাড়ি ও ঘরের ভিতর। ফলে পৌরবাসী অসহ্য যন্ত্রণায় পড়েন। টানা বৃষ্টিপাত ছাড়াও পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় শহরের বেশ কিছু অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়ে থাকে। এবছর টানা বৃষ্টিপাতে শহরে যেরকম জলাবদ্ধতা দেখা গেছে, অতীতে এমনটি আর কখনও দেখা যায়নি। মূলত পৌরশহরে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক উপায়গুলো বন্ধ হয়ে পড়ায় এমন দুর্ভোগ। পৌরমেয়র মঙ্গলবার প্রায় সারাদিনই শহরময় ঘুরে জলাবদ্ধতা দুরিকরণে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু পুরো ড্রেনেজ সিস্টেমটি যেখানে বিকল হয়ে পড়েছে সেখানে তিনি তেমন আর কী করবেন? তাঁর কণ্ঠে রীতিমত হতাশা ফুটে উঠেছে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘খাল ও জলধারা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে। না হয় শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।’ পৌরমেয়র সমস্যাটি উপলব্ধি করতে পেরেছেন ভালভাবে। কিন্তু সমাধানের পথটি খোঁজে পাচ্ছেন না অথবা সেই সমাধানের পথে হাঁটতে ইতস্তত করছেন। বলাবাহুল্য তাঁর ইতস্তত করারই কথা। কারণ এই শহরের সবগুলো খাল ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে। শহরে যেসব ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, স্থানে স্থানে প্রতিবন্ধকতা থাকায় অর্থাৎ ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় ড্রেনের পানি নামতে পারছে না। সমস্যাটি একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনে এখনকার অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাই সমাধানের জন্য শক্ত পদক্ষেপ ব্যতীত সফল হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান অবলম্বন হিসাবে আমাদের আগের খালগুলোর দিকেই যেতে হবে। অর্থাৎ খালগুলোকে উদ্ধার করতে হবে অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে। দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সবসময়ই কঠিন কাজ। তবে উদ্যোগ নিতেই হবে। নতুবা পৌরমেয়রের কথামত এই শহরটি সত্যিকার অর্থেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। তবে আমরা মনে করি শহরের অভিভাবক হিসাবে উদ্যোগটি পৌর কর্তৃপক্ষকেই গ্রহণ করতে হবে। কামারখাল দখলবাজদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। অন্য খালগুলোর দখলদারদেরও চিহ্নিত করতে হবে। পৌরমেয়রকে এই কঠিন কাজে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বুড়িগঙ্গা উদ্ধার করতে আমরা দেখেছি বড় বড় দালানকোঠা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে। সুনামগঞ্জের খাল উদ্ধারেও অনুরূপ তৎপরতা দরকার। এই জায়গায় পৌরমেয়র যদি শহরবাসীকে নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তাহলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বিদ্যমান ড্রেনগুলো যাতে সবসময় পরিষ্কার করা হয় সেজন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যারা বাসাবাড়ি নির্মাণ করছেন তাদের অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশিত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কিনা সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পানিপ্রবাহের পথ যারা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদেরকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণে বাধ্য করতে হবে।
পৌর কর্তৃপক্ষকে মনে রাখতে হবে, শহরের উপর জনসংখ্যার চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই চাপ আরও বাড়বে। সুতরাং পৌর ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী না করলে এই শহর বসবাসের অযোগ্য হবে। মানুষের যন্ত্রণা ও কষ্ট বাড়বে। পৌর নাগরিকরা নিজেদের ভোট দিয়ে যে পৌর পরিষদ গঠন করেন তাঁদের দায়িত্ব হল, শহরকে বসবাসের যোগ্য করে গড়ে তোলা। আমরা আশা করি আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও বর্তমান পৌর পরিষদ এই কাজে সফলতা দেখাতে পারবেন।