শহরতলীর তিন গ্রামে সুরমার ভয়াবহ ভাঙন

আকরাম উদ্দিন
এবারের বর্ষায় শহরতলীর ৩ গ্রামে সুরমার ভায়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে ভেঙে বিলীন হচ্ছে গ্রামের ঘর, বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছ-পালা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় গ্রামের ও রাস্তা-ঘাটের চিত্র পাল্টে গেছে। জরুরিভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে দাবি জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, হালুয়ারঘাট এলাকা থেকে শুরু হওয়া নদী ভাঙন মইনপুর গ্রামের খাল পর্যন্ত এগিয়েছে প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে। ভাঙনে অনেক গাছ-পালা, ঘর-বাড়ি বিলীন হয়েছে নদীতে। নদীরপাড়ের যাতায়াত রাস্তাও বিলীন হয়েছে। মইনপুর গ্রামের নদীরপাড়ে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বিলীন হয়েছে। এখন বিদ্যালয় ভবনটিও ভাঙনের মুখে। প্রতি বছরের মতো এবারের বর্ষায়ও বেশি ভাঙছে। নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছেন একাধিকবার।
পাশের গ্রাম জগন্নাথপুরের বাসিন্দারাও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালা নদী গর্ভে হারিয়েছেন। এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা বিভিন্ন সময় নদী ভাঙন রোধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছেন একাধিকবার।
এ গ্রামের পাশে রয়েছে পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রাম। সুরমা নদীর উত্তরপাড়ে শহরের সন্নিকটে এই গ্রামটি অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামেও রয়েছে নদী ভাঙনের ভয়াবহতা। দীর্ঘদিন যাবত ভাঙনের ছোবল থাকলেও ২০০৭ সালে ব্যাপক আকারে নদী ভাঙন দেখা দেয়। পরে ২০১১ সালে সরকারি বরাদ্দে গ্রামের ভাঙন অংশে পাকা ব্লক স্থাপন করা হয়। কিন্তু কাজ মানসম্পন্ন না হওয়ায় এক বছর পর থেকে ব্লক খসে পড়তে থাকে সুরমা নদীতে। গ্রামের নদীরপাড়ে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ঘর, বাড়ি ও গাছ-পালা বিলীন হয় নদী ভাঙনে। গ্রামের বাসিন্দারা নদী ভাঙন প্রতিরোধে কয়েকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি।
মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মসজিদের ইমাম মাও. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এই গ্রামটি প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে আসছে। নদী ভাঙনে অনেক ঘর, বাড়ি ও গাছ-পালা ধ্বংস হয়েছে। অনেকে মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়েছেন। কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। আমরা দ্রুত এই নদী ভাঙন প্রতিরোধ চাই।’
নিশিত বর্মণ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। কয়েকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও দিয়েছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমারা জরুরিভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।’
পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হানিফ বলেন, ‘প্রতি বছর নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস ছাড়াও বিভিন্ন অফিসে আবেদন করেছি। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কেউ এগিয়ে আসেন না। প্রতি বছর বাড়ি ও ঘর ভেঙে পড়ে নদীতে। জন চলাচল রাস্তাও নেই। আমাদের বসতবাড়ির উপর দিয়ে জন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। নদী ভাঙনের হাত থেকে আমাদের বাড়ি-ঘর রক্ষার দাবি জানাই।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘জেলার ২৭ জায়গার নদী ভাঙন সংস্কারে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ আসলে পর্যায়ক্রমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হবে।’